২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে; রেমিট্যান্সে রেকর্ড উচ্চতা, মুদ্রা রিজার্ভে দৃঢ়তা, তবে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধীর। এই পরিস্থিতি নীতি নির্ধারক ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগের কারণ, কারণ তারা পূর্বের তুলনায় বেশি অনিশ্চয়তা অনুভব করছেন।
বিদেশি মুদ্রা রেমিট্যান্স ২০২৫ সালে ৩২.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি কমাতে সহায়তা করেছে।
মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এক বছর আগে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার ছিল, আর ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তা ২৮.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এই রিজার্ভ পাঁচ মাসের আমদানি বিল কভার করতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তিন মাসের সীমা থেকে বেশী এবং আর্থিক শক শোষণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
রিজার্ভের এই সঞ্চয় অর্থনীতির শক শোষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদার করে। তবে রিজার্ভের বৃদ্ধি একা দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে না, যদি রপ্তানি দিকের সমস্যাগুলি সমাধান না হয়।
রপ্তানি ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রবৃদ্ধি খুবই ধীর। প্রধান রপ্তানি সেক্টর গার্মেন্টসের বছর-ও-বর্ষে মাত্র এক শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা প্রায় ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের আয় তৈরি করে। গার্মেন্টস দেশের মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক অংশ গঠন করে, তাই এই অল্প বৃদ্ধি সমগ্র রপ্তানি কাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায়।
গার্মেন্টসের পাশাপাশি হিমায়িত মাছ, কৃষি পণ্য এবং বিভিন্ন প্রস্তুত পণ্যের রপ্তানি পরিমাণেও হ্রাস দেখা যায়। এই সেক্টরগুলোর পতন সামগ্রিক রপ্তানি আয়কে নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যের অভাবকে উন্মোচিত করে।
রপ্তানি হ্রাসের ফলে দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা মুদ্রা রিজার্ভের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে গার্মেন্টসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়ায় এবং আমদানি অর্থায়নের শর্তকে কঠিন করে তুলতে পারে।
গবেষণা ও নীতি সংহতি সংস্থার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রেজা্কের মতে, রপ্তানি হ্রাস একটি গঠনমূলক দুর্বলতা নির্দেশ করে, যা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে একা পূরণ করা কঠিন। তিনি সতর্ক করেন, রপ্তানি সেক্টরের চাপ শীঘ্রই কমবে না এবং তা অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
রেজা্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চাপের মূল কারণগুলোতে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশের অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতা অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সমর্থনমূলক সংকেত দেখা যাচ্ছে না, এবং তা অব্যাহতভাবে অনিশ্চিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে যখন প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা দেখা দিচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং মুনাফা হ্রাস পাচ্ছে, যা শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে নীতি নির্ধারকদের রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। গার্মেন্টসের পাশাপাশি মাছ, কৃষি এবং হাই-টেক পণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমাবে।
সংক্ষেপে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে রেমিট্যান্স ও মুদ্রা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, রপ্তানির ধীরগতি এবং গঠনমূলক দুর্বলতা দেশের অর্থনৈতিক দিককে অনিশ্চিত করে তুলেছে। রপ্তানি বৈচিত্র্য ও বৈশ্বিক বাণিজ



