ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাসের কারণ প্রকাশিত হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির জানানো মতে, গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে অবস্থিত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশের ফলে গ্যাসের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার ফলে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, ফার্মগেটসহ বহু এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে রাঁধুনিরা রান্না চালাতে অক্ষম হয়, ফলে খাবার প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি হয় এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
তিতাস গ্যাসের জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এএইচএম মাছউদুর রহমান স্ট্রিম উল্লেখ করেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চালু রয়েছে, তবে ঠিক কতদিনে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কোম্পানি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গ্যাসের স্বল্পচাপের ব্যবসায়িক প্রভাব স্পষ্ট। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এবং ফাস্ট ফুড চেইনগুলো গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাই সরবরাহের ঘাটতি তাদের উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত করে এবং বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে ছুটির দিনে, যখন গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, গ্যাসের ঘাটতি ব্যবসার আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করে।
অনলাইন খাবার অর্ডার সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ গ্যাস না থাকা অবস্থায় ঘরে রান্না করা কঠিন হয়। তবে ডেলিভারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সাপ্লাই চেইনের অন্যান্য লিঙ্কে চাপ বাড়াতে পারে, যেমন ডেলিভারি পার্সনদের গ্যাস চালিত গাড়ি বা সাইকেল ব্যবহার।
বাড়ি-গৃহস্থালীর ক্ষেত্রে গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে গ্যাস সিলিন্ডার বা পিএলসি (প্রি-লোডেড সিলিন্ডার) ক্রয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সিলিন্ডার বাজারের সরবরাহ সীমিত থাকলে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক চাপ বাড়াবে।
শক্তি বাজারে গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি তাপ উৎপাদন ও শিল্পখাতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই ঘটনার প্রভাব প্রধানত গৃহস্থালী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর, তবে বৃহৎ শিল্প ইউনিটগুলোও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
তিতাস গ্যাসের জন্য এই ঘটনা একটি অপারেশনাল ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কোম্পানি যদি দ্রুত মেরামত ও পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে, তবে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে গ্যাস সরবরাহের অস্থিরতা শেয়ার বাজারে তিতাস গ্যাসের শেয়ার মূল্যে অস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা শক্তিশালী করা বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে পারে।
সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এই ধরনের ঘটনার পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। যদি অতিরিক্ত নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হয়, তবে তিতাস গ্যাসের অপারেশনাল ব্যয় বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের গ্যাস বিলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অবিলম্বে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা উভয়ই গ্রাহক ও ব্যবসার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতি গৃহস্থালী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, তবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব।
গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে গ্রাহকরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার, সিলিন্ডার ক্রয় বা খাবার অর্ডার করার দিকে ঝুঁকছেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপে পরিবর্তন আনতে পারে। তিতাস গ্যাসের দ্রুত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের সাফল্যই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে মূল চাবিকাঠি হবে।



