ম্যাকলেসফিল্ডের ফিনিক্স ক্লাব, বর্তমানে ন্যাশনাল লিগ নর্থে অবস্থানরত, এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে শিরোপা ধারক ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচটি শনিবার নির্ধারিত এবং দলটি শীতল আবহাওয়ার কারণে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্ল্যাট লেন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়েছে। ক্লাবের মালিক রব স্মেথারস্টের আর্থিক সহায়তায় চার মৌসুমে তিনটি প্রমোশন অর্জন করে এখন তারা প্রতিযোগিতার সর্বনিম্ন স্তরের দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শিবিরে ছোট ড্রেসিং রুমে, ম্যানেজার জন রোনি এবং তার সহকারী ফ্রান্সিস জেফার্স তীব্র আলোচনা করছেন। তারা শনিবারের ম্যাচের আগে শেষ একবারের প্রশিক্ষণ সেশনের পরিকল্পনা করছেন, যাতে খেলোয়াড়রা শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারে। রোনি এবং জেফার্সের মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট, তবে কিটম্যান গেড কোয়েনের হাতে থাকা সুপারমার্কেটের সামগ্রীগুলো পরিবেশকে হালকা করে তুলেছে।
কিটম্যান গেড কোয়েন যখন প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে থাকা খাবারগুলো নিয়ে প্রবেশ করেন, তখন দলের মনোভাব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। হাসি মুখে খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হয় এবং পাশের ঘরে সঙ্গীতের সুরে কাজের গতি বাড়ে। এই মুহূর্তে দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধতা দেখা যায়, যা শীতের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শীতের তীব্রতা এবং তুষারপাতের কারণে মূল প্রশিক্ষণ মাঠে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্ল্যাট লেন কমপ্লেক্সে নতুন পরিবেশে দলটি দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। রোনি উল্লেখ করেন, “এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আমাদের প্রস্তুতিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে, তবে আমরা তা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত।”
জন রোনি, যিনি আগে ম্যাকলেসফিল্ড টাউন ক্লাবে খেলেছেন, ২০২০ সালে ক্লাবের আর্থিক সমস্যার কারণে টাউন ক্লাবের পতন দেখেছিলেন। টাউন ক্লাবের ঋণ ৫ লক্ষ পাউন্ডের বেশি ছিল এবং ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। রোনি তখনই ফিনিক্স ক্লাবে যোগ দেন এবং মালিকের সমর্থনে ক্লাবটি দ্রুত উত্থান দেখেছে।
রোনি জানান, “ম্যাকলেসফিল্ডের জন্য আমি গর্বিত, কারণ এই ক্লাবই আমাকে খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ দিয়েছিল। এখন কোচের দায়িত্বে দাঁড়িয়ে আবার এই ক্লাবের জন্য কাজ করা আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি।” তিনি অতীতের একটি স্মরণীয় মুহূর্তের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ২০০৯ সালে এফএ কাপের একই পর্যায়ে তিনি এভারটনের বিরুদ্ধে ৯০তম মিনিটে পরিবর্তন খেলেছিলেন। “সেই মুহূর্তটি আজও মনে আছে, বলটি বক্সের কিনারায় লাফিয়ে উঠছিল, আর আমি তা ধরতে গিয়ে সাইমন ইয়েওকে দেখেছি,” রোনি স্মরণ করেন।
ফিনিক্স ক্লাবের বর্তমান অবস্থান ন্যাশনাল লিগ নর্থে, যা ইংরেজি ফুটবলের ষষ্ঠ স্তর। এই স্তরে তারা এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া সবচেয়ে নিচু র্যাঙ্কের দল। তবুও ক্লাবের মালিকের আর্থিক সহায়তা এবং দলের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি তাদেরকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
ক্লাবের টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা ছিল শত শত টিকিট বাড়ানোর, তবে শীতের কারণে এবং স্থানান্তরের ফলে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তবু দলটি ভক্তদের সমর্থন পেতে এবং ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত। রোনি এবং জেফার্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেষ প্রশিক্ষণ সেশনে কৌশলগত পরিবর্তন এবং শারীরিক প্রস্তুতি উপর জোর দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে রোনি দলের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। “আমি জানি আমাদের খেলোয়াড়রা কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। আমরা একসাথে এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করব এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাব,” তিনি বলেন। এই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দলটি শীতের তাপমাত্রা এবং নতুন মাঠের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
শুক্রবারের শেষ প্রশিক্ষণ সেশনের পর, ম্যাকলেসফিল্ডের খেলোয়াড়রা শনিবারের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হবে। এফএ কাপের এই গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ডে তারা শিরোপা ধারক ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই দলটি তাদের ঐতিহ্য এবং নতুন উত্থানের গল্পকে সামনে নিয়ে যাবে।



