ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টম টুগেনহাট রাশিয়ার মালবাহী বিমানগুলো ইরানে অবতরণ করে দেশের বাইরে স্বর্ণ রপ্তানি করছে এবং একই সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এই মন্তব্যটি ইরানের চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়।
ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো সরকারকে দশকের শাসনের মুখে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। প্রতিবাদকারীরা অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে।
টুগেনহাটের মতে, রাশিয়ান মালবাহী বিমানগুলো ইরানের মাটিতে অবতরণ করে বিশাল পরিমাণ স্বর্ণকে বিদেশে পাঠাচ্ছে। তিনি এটিকে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে ‘পতনের পরের জীবনের প্রস্তুতি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
এছাড়া, একই রাশিয়ান বিমানগুলোতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইরানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এই তথ্যগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বর্ণ রপ্তানির পেছনে ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণের ইঙ্গিতও টুগেনহাট দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ধনী ও ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে স্বর্ণকে বিদেশে স্থানান্তর করছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ২ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যা চলমান সহিংসতার তীব্রতাকে নির্দেশ করে।
বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে টুগেনহাট উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কর্মকর্তারা গোপন তথ্যের লিক ঘটিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অবিশ্বাস ও আতঙ্কের পরিবেশ গড়ে উঠেছে। প্রত্যেক কর্মকর্তা নিজেদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
ব্রিটিশ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যাকনার টুগেনহাটের বিবৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্যে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি যুক্তরাজ্যের ইরানি জনগণের সমাবেশের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদ করার অধিকারকে অপরিহার্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এই বিক্ষোভের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের শাসনের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। স্বর্ণ রপ্তানি ও সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের খবর সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মুখে আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ইরানকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাড়তি চাপের সম্মুখীন হতে পারে, পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এইসব বিষয়ের বিকাশ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



