হিন্দি ভাষার নতুন চলচ্চিত্র ‘হাক’ নেটফ্লিক্সে প্রকাশের পর প্রথম সপ্তাহেই ভারতীয় তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী নন‑ইংরেজি চলচ্চিত্রের শীর্ষ দশে দ্বিতীয় স্থানে বসে আন্তর্জাতিক দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মোট ১৪টি দেশে শীর্ষ দশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পাঁচটি দেশে প্রথম স্থানে উঠে আন্তর্জাতিক সাফল্যের সূচক স্থাপন করেছে।
এই সাফল্য নেটফ্লিক্সের সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিং থেকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে। ‘হাক’ ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় তালিকায় শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও প্ল্যাটফর্মে বহু পুরনো শিরোনামও একই সময়ে চলমান। এই ধারাবাহিকতা চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও পারফরম্যান্সের প্রতি দর্শকদের স্থায়ী আগ্রহের প্রমাণ।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রে রয়েছে ইয়ামি গৌতম ও এমরান হাশমি, যারা শাজিয়া ও অন্য প্রধান চরিত্রে যথাক্রমে অভিনয় করেছেন। গৌতমের সংযত ও নির্ভীক অভিনয় এবং হাশমির অস্বাভাবিক ভূমিকায় তার সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হিসেবে প্রশংসা পেয়েছে সমালোচক ও দর্শক উভয়ই। দুজনের পারস্পরিক ক্রিয়া আদালত কক্ষের নাট্যকে রুটিন প্রক্রিয়ার চেয়ে গভীর সামাজিক প্রশ্নে রূপান্তরিত করেছে।
‘হাক’ মূলত ১৯৮৫ সালের শাহ বানো মামলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে ঐ ঐতিহাসিক ঘটনার সরাসরি পুনর্নির্মাণের বদলে ব্যক্তিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি আইন ও সমাজের কাঠামোর প্রভাবকে ব্যক্তিগত জীবনের ওপর কীভাবে ছাপ ফেলে তা তুলে ধরে, ফলে দর্শককে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি করে।
সুপার্ন এস. ভার্মার পরিচালনায় তৈরি এই চলচ্চিত্রটি সামাজিক বাস্তবতা ও পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সংক্ষিপ্ত ও নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি, নীরবতা ও টানাপোড়েনের মাধ্যমে অর্থ গঠন করার পদ্ধতি শিল্প জগতের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও OTT প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রের প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
‘হাক’ এর সাফল্য শুধুমাত্র সংখ্যাত্মক র্যাঙ্কিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হিন্দি ভাষার আদালত নাটকের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রচলিত নাট্যগত রীতির পরিবর্তে চলচ্চিত্রটি ক্ষমতা, ধর্ম, বিবাহ ও নৈতিক দায়িত্বের জটিল সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করে, যা দর্শকের মধ্যে গভীর চিন্তার উদ্রেক করে।
নেটফ্লিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘হাক’ এর ধারাবাহিক উচ্চ রেটিং এবং আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডিং অবস্থান প্ল্যাটফর্মের হিন্দি কন্টেন্টের জন্য নতুন সম্ভাবনা নির্দেশ করে। বিশেষত, পাঁচটি দেশে শীর্ষে পৌঁছানো চলচ্চিত্রের জন্য সৃষ্টিকর্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
চলচ্চিত্রের প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মিডিয়া ও শিল্প আলোচনায় ‘হাক’ এর থিম ও পারফরম্যান্সের ওপর বিশদ বিশ্লেষণ দেখা গেছে। দর্শকরা বিশেষ করে শাজিয়া চরিত্রের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদালত কক্ষের নীরব উত্তেজনাকে উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে, হাশমির অস্বস্তিকর চরিত্রের চিত্রায়নকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘হাক’ নেটফ্লিক্সে তার প্রথম সপ্তাহেই ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ অর্জন করেছে, এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক ভিত্তিক কাহিনীর চাহিদা বাড়বে বলে শিল্পের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



