শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বৃহস্পতিবার ভোরে একটি গৃহে হাতে তৈরি বোমা প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে দুইজনের প্রাণ শেষ হয় এবং দুইজন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আটক করে।
বোমা বিস্ফোরণটি নবনির্মিত একটি বসতঘরে ঘটেছে, যেখানে সোহান ব্যাপারী (৩২) এবং নবীন হোসেন (২৮) নিহত হয়। সোহানের হাত ও কব্জি বিস্ফোরণের ফলে উড়ে যায়, আর নবীনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে পরে তার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, নয়ন মোল্লা সহ দুইজনের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের মতে, মৃত সোহান এবং নবীন দুজনই একই গ্রাম, মুলাই ব্যাপারীকান্দি, দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং রহিম সরদারের পুত্র। তাদের পরিবার ও পরিচিতরা ঘটনাস্থলে শোক প্রকাশ করে।
বিস্ফোরণের পরপরই জাজিরা থানার সিআইডি ক্রাইম সিন বিভাগের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দলটি বিস্ফোরণে ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘর ও আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও উপকরণ সংগ্রহ করে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ জানান, বিশেষজ্ঞ দলটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের অবশিষ্টাংশ এবং বিস্ফোরণস্থলে ছড়িয়ে থাকা উপকরণগুলো নিরাপদে তুলে নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের বোমা তৈরির সরঞ্জামগুলো সাধারণত গৃহস্থালী সামগ্রী থেকে তৈরি হয়, তবে এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপকরণগুলোতে উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক পদার্থের উপস্থিতি সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের ফলে দু’পক্ষের লোকজন মাঝে মাঝে দেশি অস্ত্র ও হাতে তৈরি বোমা ব্যবহার করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণের শিকার ও আহতরা কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত। বিস্ফোরণ ঘটিত ঘরটি কুদ্দুসের চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর পুত্র সাগর ব্যাপারীর মালিকানাধীন, এবং ঘটনাকালীন সাগর পলাতক হয়ে যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি পুলিশ ইউনিট কাজ করছে এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত মৃত্যুর রিপোর্ট পায়নি, তবে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও উপকরণের বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার পর আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটে।



