বিএনপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনী শেষে জানালেন, যারা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে স্বাধীনভাবে প্রার্থিতা পত্র দাখিল করেছেন, তারা তফসিলের নির্ধারিত শেষ তারিখের মধ্যে তা প্রত্যাহার না করলে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পেছনে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে, যেখানে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা এবং ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার আগে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা পত্র দাখিলের শেষ দিন ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এরপরের দিন পার্টিগুলোকে প্রতীক বরাদ্দ করতে হবে এবং তার পরের দিন থেকে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। তফসিলের শর্ত অনুসারে, এই সময়সীমার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নজরুল ইসলাম খান স্পষ্ট করে বলেছেন।
খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনী সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পার্টির নীতি ও সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে কোনো প্রার্থীকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার না করা হলে তা পার্টির স্বার্থের ক্ষতি করবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম খান আরও উল্লেখ করেন, তফসিলের সময়সীমা পার্টির সকল স্তরে সমানভাবে প্রযোজ্য এবং কোনো ব্যতিক্রমী অনুমোদন নেই। তিনি বলেন, যদি কোনো প্রার্থী স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার না করে, তবে পার্টি তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যার মধ্যে পার্টির পদ থেকে অপসারণ, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই সতর্কতা পার্টির অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রার্থী দলীয় নির্দেশনা অনুসরণ না করে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতা পত্র জমা দিয়েছেন, যা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছ থেকে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তফসিলের সময়সীমা পার হয়ে যদি তারা প্রত্যাহার না করে, তবে তা পার্টির শৃঙ্খলা ভঙ্গের রূপে গণ্য হবে এবং তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, পার্টির একতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নির্বাচনী সফলতার মূল চাবিকাঠি। তাই তফসিলের শেষ তারিখের আগে সব প্রার্থীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করা হবে, যাতে নির্বাচনের পূর্বে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে। খালেদা জিয়া এই বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলছেন যে, পার্টির সিদ্ধান্তের বিপরীতে কাজ করা কোনো প্রার্থীকে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান, এবং তফসিলের শেষ তারিখের পর প্রতীক বরাদ্দের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরের দিন থেকে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপি পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি সতর্কতা হতে পারে। পার্টির নেতৃত্ব আশা করছেন, সব প্রার্থী সময়মতো প্রত্যাহার করে পার্টির ঐক্য বজায় রাখবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করবে।
শেষে, নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, পার্টির নীতি মেনে চলা এবং তফসিলের শর্ত অনুসরণ করা সকল সদস্যের দায়িত্ব, যাতে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত দলীয় কাঠামো সুসংহত থাকে এবং ভোটারদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছায়।



