শাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে শিল্প ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জের শাতকে জানিয়েছেন। বিদ্যমান ভেজা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ড্রাই প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা উৎপাদন পুনরায় শুরু করার মূল শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এই রূপান্তরের মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে এবং পরিবেশগত প্রভাব কমবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রাই প্রক্রিয়ায় রূপান্তর প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক এবং জ্বালানি খরচ কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাসে সহায়তা করবে।
কথা বলার সময় তিনি জুলাই মাসে ঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে দেশের শিল্প নীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নির্বাচিত সরকার শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ সিভিল ইনস্টিটিউট (বিসিআইসি) এর চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, ল্যান্ড অ্যান্ড গ্রামিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট (এলজিইডি) এর প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা এবং শাতক সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি একত্রে রূপান্তর পরিকল্পনা এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু করার সময়সূচি পর্যালোচনা করেন।
এছাড়াও, উপদেষ্টা পূর্বে এলজিইডি’র ‘শাতক-কাটাখালী ভায়া দোয়ারাবাজার সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য অঞ্চলীয় পরিবহন সংযোগ উন্নত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সমর্থন করা।
ড্রাই প্রসেসে রূপান্তর শাতক সিমেন্টের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক সিমেন্ট চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে উৎপাদন সময় কমে যাবে এবং গুণগত মানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা অনুমান করেন।
স্থানীয় বাজারে সিমেন্টের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শাতক সিমেন্টের পুনরায় চালু হওয়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারখানার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শ্রমিক, পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খলার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াবে।
তবে, ড্রাই প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্পন্ন করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, কাঁচামাল মূল্য পরিবর্তন এবং পরিবেশগত নিয়মাবলী মেনে চলা ভবিষ্যতে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শাতক সিমেন্টের উৎপাদন পুনরায় শুরু এবং ড্রাই প্রসেসে রূপান্তর দেশের সিমেন্ট শিল্পের আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় কর্মসংস্থান, উৎপাদন দক্ষতা এবং বাজার সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সমর্থন প্রয়োজন।



