জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার কাছাকাছি দুই ভাই বাড়ি ফেরার পথে হিংসাত্মক হামলার শিকার হয়ে এক যুবদল কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের নাম ইয়ানূর হোসেন, যিনি শালাখুর গ্রাম, ইয়াছিন আলীর পুত্র এবং স্থানীয় যুবদল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত দেহটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে এবং পরে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচবিবি থানার ওসি হাফিজ মো. রায়হান জানান, মৃতের দেহটি উপজেলায় অবস্থিত ঢাকার পাড়া এলাকায় পাওয়া যায় এবং তা রক্তে লিপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দেহটি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে জয়পুরহাট সদর সরকারি হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয়েছে অটোসিসের জন্য।
ইয়ানূর হোসেনের পরিবার জানায়, তিনি ইয়াছিন আলীর ছেলে এবং স্থানীয় যুবদল সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন, যা সম্ভবত এই হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিবার আরও উল্লেখ করে, ইয়ানূরের ছোট ভাই আব্দুল মোমিনও একই সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং বর্তমানে উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
হাফিজ ওসি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে ইয়ানূর ও মোমিন দুজনেই ঢাকার পাড়া রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাদের সঙ্গে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হঠাৎ আক্রমণ চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। আক্রমণের ফলে ইয়ানূর现场েই নিহত হন, আর মোমিনকে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হামলাকারীরা তীক্ষ্ণ ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালায় বলে ওসি জানান, এবং তারা দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। আহত মোমিনের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মসজিদ হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একই সময়ে মসজিদে আর্থিক হিসাব নিয়ে কিছু বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছিল, যা সম্ভবত এই হিংসাত্মক ঘটনার দিকে নিয়ে গিয়েছে।
হাফিজ ওসি আরও জানিয়েছেন, তদন্তের সময় সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রক্তের নমুনা এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।
শুক্রবার বিকালে পুলিশ এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে, যার নাম সোহেল। সোহেলকে স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তিনি হিংসা ঘটনার সঙ্গে তার সংযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে পড়েন। গ্রেপ্তারির পর সোহেলকে জামিনের শর্তে আটক করা হয়।
মৃতদেহের অটোসিসের ফলাফল জানার জন্য জয়পুরহাট সদর সরকারি হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান। পরিবার এখনো কোনো আইনি মামলা দায়ের করেনি, তবে তারা ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছে।
পুলিশের মতে, সব প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত হিংসা না ঘটে এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একসাথে কাজ করে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসা রোধ করা যায়। সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



