ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার তেহরানে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার পর ইরানকে কোনো অভ্যন্তরীণ ধ্বংসাত্মক কাজের সামনে নতি স্বীকার করতে না বলার ঘোষণা দেন। তিনি এই মন্তব্য করেন যখন দেশের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দশ দিন ধরে চলমান প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
খামেনি সমর্থকদের উদ্দেশে তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেন, বলেন ট্রাম্পের হাতে এক হাজারের বেশি ইরানির রক্ত লেগে আছে। তিনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পতনকে উদাহরণ দিয়ে ট্রাম্পের জন্যও অনুরূপ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে ইঙ্গিত দেন।
বিক্ষোভের সূচনা ২৮ ডিসেম্বর থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু হয়। পরে শ্রমিক, ছাত্র, নারী ও পুরুষসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী এই আন্দোলনে যুক্ত হয় এবং ধারাবাহিকভাবে রাস্তায় উপস্থিত থাকে। এই ধারাবাহিকতা গত বারো দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবাদে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে তেহরানসহ দেশের অন্যান্য প্রধান শহরে হাজার হাজার demonstrator রাস্তায় নেমে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা সরকারী নীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে, একই সঙ্গে কিছু অংশে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি অবিশ্বাসও প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবাদ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানি সরকার ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং মোবাইল ফোন সেবারও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। বেশ কিছু অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বন্ধের মুখে রয়েছে, ফলে নাগরিকদের যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এই পদক্ষেপগুলোকে সরকার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি এই পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সরকারী নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ বাড়ে। তার এই বার্তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
সরকারের দিক থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে কোনো তাত্ক্ষণিক নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, ফলে জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, দীর্ঘমেয়াদী বিক্ষোভের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিতে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বর্তমান সময়ে নেতৃত্বের অবস্থান স্থিতিশীল এবং তারা কোনো ধরণের সমঝোতা স্বীকার করতে ইচ্ছুক নয়। এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে, বিশেষ করে যখন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
অবস্থা এখনও পরিবর্তনশীল, নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান শহরগুলোতে উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা বজায় রেখেছে এবং ইন্টারনেটের সীমিত প্রবেশাধিকার তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে প্রতিবাদকারীর সংখ্যা ও তাদের কার্যক্রমের প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার দিকে নজর রাখলেও, এই প্রতিবেদনে কোনো বহিরাগত মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সরকারী পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা বা নীতি পরিবর্তনের সংকেত দেখা যায়নি।



