22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামোদি ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভারত‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত

মোদি ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভারত‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের মতে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করার ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচ্য বাণিজ্য চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। লুটনিকের মন্তব্য রোয়টার্সের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে চুক্তি সম্পন্ন করতে মোদীর একক ফোন কলই যথেষ্ট হতো।

বছরের শেষের দিকে দিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তির শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এবং উভয় পক্ষই চূড়ান্ত নথিপত্রে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে আলোচনার শেষ মুহূর্তে, মোদী ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন না করার সিদ্ধান্ত নেন, যা লুটনিকের মতে চুক্তি অগ্রসর হওয়ার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মার্চে ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে বাড়িয়ে দেয়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ হার। এই শুল্কের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অংশ ভারতের রাশিয়ার তেল ক্রয় চালিয়ে যাওয়ার কারণে আরোপিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া-নিরপেক্ষ নীতি বিরোধী। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

লুটনিকের মতে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল এবং চুক্তি চূড়ান্ত করতে মোদীর এক ফোন কলই যথেষ্ট হতো। তবে তিনি যুক্তি দেন যে মোদি একতরফা কথোপকথনকে রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে দেখেন এবং তাই কলটি করেননি। এই দৃষ্টিভঙ্গি দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন এক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর পর, যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর রাশিয়ার তেল আমদানি কমাতে না পারলে ভারতীয় শুল্ক আরও বাড়বে এমন সতর্কবার্তা জারি করে। এই সতর্কবার্তার পরই ভারতীয় রুপি রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা বাজারে উদ্বেগের সঞ্চার করে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি দেখতে চায়, যাতে মুদ্রা ও বাণিজ্যিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে।

ভারত এখনও এমন শুল্ক হার চায় যা যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তিতে প্রয়োগ করেছে। পূর্বে এই শর্তে সমঝোতা হয়েছিল, তবে প্রস্তাবের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, লুটনিক জানান। নতুন শর্তের আলোচনার জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রীর মন্তব্যের পর ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রোয়টার্সের ইমেইল পাঠানো হয়, তবে মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই অপ্রতিক্রিয়া উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের ফাঁক বাড়িয়ে দেয়।

গত বছর দু’দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্নের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে একাধিকবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে চুক্তির সম্ভাবনা হ্রাস পায়। একটি ভারতীয় সরকারি সূত্র উল্লেখ করেছে যে মোদি একপাক্ষিক কথোপকথনকে রাজনৈতিক চাপের উৎস হিসেবে দেখেন, ফলে ফোন কল করা থেকে বিরত ছিলেন।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চুক্তির স্থগিত হওয়া উভয় দেশের রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য এবং শিল্পের প্রতিযোগিতার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্য বাজারের চাহিদা পরিবর্তন করতে পারে।

ভবিষ্যতে চুক্তি পুনরায় চালু করতে হলে উভয় পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন করা জরুরি। যদি শুল্কের হার ও রাশিয়ান তেল আমদানি সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান না হয়, তবে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে। তাই বিনিয়োগকারী ও শিল্প সংস্থাগুলো উভয় দেশের নীতি পরিবর্তনের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments