অস্ট্রেলিয়ার ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের দুইজন প্রতিষ্ঠাতা, কিম ময়েজ এবং জুলিয়ান হ্যামিল্টন, ২০২৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের লাইভ ওপেনিং সপ্তাহে মেলবোর্নে পারফর্ম করবেন। অনুষ্ঠানটি ১৬ জানুয়ারি শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হবে এবং লাইভ নেশন অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো এই ইভেন্টের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করবে।
কিম ও জুলিয়ান ১৯৯০-এর মাঝামাঝি সিডনি কনসারভেটোরিয়াম অফ মিউজিক-এ একে অপরকে চেনেন এবং এরপর থেকে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে একসাথে সঙ্গীত রচনা ও পরিবেশন করছেন। তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ২০০৫ সালে প্রকাশ পায়, আর ২০০৮ সালে প্রকাশিত ‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’ অ্যালবাম দেশের সঙ্গীত তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে, এবং এই গরমের মাঝেও দ্য প্রিসেটসের কনসার্টের উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ওশান সাউন্ডস ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, এবং এখন মেলবোর্নে বিক্রি‑শেষ কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের লাইভ ওপেনিং সপ্তাহের অংশ হিসেবে এই পারফরম্যান্সটি সম্পূর্ণ সোল্ড‑আউট, যা ইভেন্টের সংগীতময় পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দর্শকরা তাদের ক্লাসিক হিটের পাশাপাশি নতুন সাউন্ডের স্বাদ পেতে পারবেন, যদিও নতুন অ্যালবাম এখনও প্রকাশের পথে।
কিম ময়েজ নতুন সঙ্গীতের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি হাসি দিয়ে বলেছিলেন, দীর্ঘ সময়ের ব্যান্ড জীবনে স্টুডিওতে সরাসরি বসে সৃষ্টির সুযোগ থাকে, তবে সত্যিকারের জীবন্ত সুর তৈরি করতে বিভিন্ন জীবনের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা জরুরি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এবং জুলিয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
ময়েজ গত বছর ব্রিসবেন ফেস্টিভ্যালে ‘গ্যাটসবি’ নাটকের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি থিয়েটার ও ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে জুলিয়ান ২০২৪ সাল থেকে এপিআরএ মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গীত শিল্পের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান।
দুইজনই প্রযোজক, রিমিক্সার এবং ডি.জে. হিসেবে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন, এবং তাদের সৃজনশীল দক্ষতা বিভিন্ন শিল্পীর সাথে সহযোগিতায় প্রকাশ পেয়েছে। এই বহুমুখী কাজগুলো তাদের সঙ্গীতের রঙিন প্যালেটকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ভক্তদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে।
দ্য প্রিসেটসের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘বিমস’ ২০০৫ সালে প্রকাশের পর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে সঙ্গীতের সীমা প্রসারিত করেছে। ২০০৮ সালের ‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’ অ্যালবাম দেশের সঙ্গীত চার্টে শীর্ষে উঠে, এবং ‘মাই পিপল’, ‘দিস বয়’স ইন লাভ’ ইত্যাদি হিট গানের মাধ্যমে তারা ছয়টি আরিয়া অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। এই সাফল্য তাদের অস্ট্রেলিয়ান ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের কিংবদন্তি অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কনসার্টটি শুধু একটি পারফরম্যান্স নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের স্পোর্টস ইভেন্টের সঙ্গে সঙ্গীতের সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকদের একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। ভক্তদের জন্য এটি একটি সুযোগ, যেখানে তারা পুরনো হিটের সঙ্গে নতুন সুরের সম্ভাবনা অনুভব করতে পারবেন। ভবিষ্যতে নতুন অ্যালবাম প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান কনসার্টটি ইতিমধ্যে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার তাপপ্রবাহের মাঝেও দ্য প্রিসেটসের সুরের তাপ বাড়িয়ে দেবে, এবং মেলবোর্নের ভক্তরা এই অনন্য সঙ্গীত অভিজ্ঞতা মিস না করার জন্য টিকিট সংগ্রহে ত্বরান্বিত হওয়া উচিত।



