অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চালু করেছে; ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্ভাবন হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ব্যাংকটি ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামোকে শক্তিশালী করে, দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে একটি অনন্য মডেল তৈরি করবে।
জাতীয় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্কও ব্যাংক আইন পাস হলে তা একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হবে বলে উল্লেখ করেছে, যা খাতের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে।
প্রস্তাবিত ব্যাংকের অধীনে সবার কাছ থেকে জমা গ্রহণের অনুমতি থাকবে; ফলে ঋণের মূলধনের জন্য উচ্চ সুদের হারসহ অন্যান্য ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে।
এছাড়া ব্যাংকটি ঋণ প্রদান, বীমা সেবা, রেমিট্যান্স, দেশীয় ও বিদেশী অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুবিধা প্রদান করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কৃষি, কুটির শিল্প এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোগের জন্য ঋণের পরিধি বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
গত রোববার দেশের এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশের খসড়া খাতের বাস্তবতা ও দীর্ঘদিনের অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা যুক্তি দেন, যদি এই অধ্যাদেশ কার্যকর হয়, তবে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ খাতের ইতিবাচক ভূমিকা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবু তারা স্বীকার করেন, সরকার ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নীতিগতভাবে ইতিবাচক; তবে খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায় কাঠামো, দর্শন ও লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ব্যাংকের মালিকানা গঠন বিশেষভাবে ভিন্ন; ৬০ শতাংশ শেয়ার গরিব সদস্যদের হাতে থাকবে, বাকি ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের কাছে যাবে।
মুনাফা বা ডিভিডেন্ডের কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, লাভের আশায় কোনো ব্যক্তি বিনিয়োগ করতে পারবে না; ফলে ৪০ শতাংশ মূলধন মূলত বিভিন্ন এনজিওর উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে আসবে।
ব্যাংক থেকে উৎপন্ন যে কোনো অতিরিক্ত অর্থ আবার সদস্যদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে, যা সামাজিক ব্যবসার মূল নীতি—সামাজিক সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ, ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে বেশি—কে সমর্থন করবে।
এই মডেল অনুসরণ করলে ক্ষুদ্রঋণ খাতে অতিরিক্ত সুদ, অনৈতিক মুনাফা এবং শোষণমূলক প্র্যাকটিসের ঝুঁকি কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি ব্যাংকটি সফলভাবে চালু হয়, তবে উচ্চ সুদের হারযুক্ত ঋণদাতাদের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে, আর গ্রাহকরা সাশ্রয়ী শর্তে আর্থিক সেবা পাবে।
তবে নতুন কাঠামোর নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, তহবিল সংগ্রহের স্থায়িত্ব এবং কার্যকরী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
সংক্ষেপে, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রকল্পটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তবে সফলতা অর্জনের জন্য নীতিগত সূক্ষ্মতা ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



