চাটমোহর উপজেলার চাটমোহর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতের ডিউটি শেষের দিকে, নার্স সুলতানা জাহান ডলি (২৮) গলায় ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ঘটনাটি শুক্রবার সকাল প্রায় ৮টায় ঘটেছে, যখন তার স্বামী আমিরুল ইসলাম (৩৫) একই স্থানে উপস্থিত হন।
ডলি, কুষ্টিয়া পাড়া শাহজাহান আলীর মেয়ে, গলায় একাধিক সেলাই প্রয়োজনীয় আঘাত পেয়ে তৎক্ষণাৎ কমপ্লেক্সের চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসক ড. ওমর ফারুক বুলবুল জানান, গলায় ছুরির আঘাতের ফলে সেলাই করা হয়েছে এবং রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলি পূর্বে জানিয়েছিলেন যে তার স্বামী সেনা সদস্য।
পুলিশের মতে, আমিরুল ইসলাম রাতের ডিউটি শেষের সময়ই নার্সের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেন। কথাবার্তায় উত্তেজনা বাড়ার পর, তিনি ছুরি বের করে ডলির গলায় আঘাত করেন এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য কর্মী ও রোগীরাও এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
চাটমোহর থানা ওসির গোলাম সারওয়ার জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ সময়ের পারিবারিক সমস্যার ফলে এই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে দম্পতির মধ্যে চলমান বিবাদই মূল কারণ।
পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তিনি পালিয়ে যাওয়ার পরপরই অনুসন্ধান চালু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
আহত নার্সের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ড. বুলবুলের মতে, গলায় সেলাই সম্পন্ন হওয়ার পর রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক প্রভাবের জন্য পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ এই ধরনের হিংসা প্রতিরোধে সতর্কতা বাড়াতে বলেছে। তারা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, গৃহহিংসা সংক্রান্ত আইনের অধীনে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর, চাটমোহর উপজেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী ও রোগীরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করছেন যে, কর্মস্থলে হিংসা রোধে কঠোর নীতি ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার অগ্রগতি জানানো হবে। বর্তমানে, পুলিশ মামলাটি ফৌজদারি তদন্তের অধীনে রাখছে এবং স্বামীকে গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনা গৃহহিংসা ও কর্মস্থল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমাধানমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



