যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সিদ্ধান্তই শেষমেশ তাইওয়ানকে কীভাবে মোকাবিলা করবে তা নির্ধারণ করবে, তবে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি থেকে আলাদা রূপে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার হুমকি সৃষ্টি করছিল, যার মধ্যে অপরাধী ও মাদকের প্রবাহ অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায়, যেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান চীনের জন্য একই ধরনের হুমকি তৈরি করে না; সেখানে কোনো অপরাধী প্রবাহ বা মাদকের প্রবেশের ঘটনা নেই।
চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে তাইওয়ানকে দেশীয় অখণ্ডতার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পুনরায় একীভূত করা হবে বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও, দ্বীপের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মেয়াদে চীনকে তাইওয়ানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না বলার আশ্বাস দেন, এবং ২০২৯ সাল পর্যন্ত চীনের কোনো আক্রমণ বা অবরোধের সম্ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ভেনেজুয়েলা অভিযানের ফলস্বরূপ মাদুরো ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাইওয়ান সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন উদ্বেগের সঞ্চার করেছে।
গত সপ্তাহে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) তাইওয়ানের নিকটবর্তী এলাকায় দুই দিনব্যাপী সামরিক অনুশীলন চালায়, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের মতে, এই অনুশীলনগুলো ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতির মতো নয়; তাইওয়ানকে চীন থেকে কোনো সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হয় না। তবে তিনি স্বীকার করেন, চীনের সিদ্ধান্তই শেষমেশ তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে, এবং যদি চীন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তিনি শি জিনপিংয়ের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের ইঙ্গিত দেন।
এই বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলকে পুনরায় আলোচনার সূচনা করেছে। ট্রাম্পের মেয়াদে চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, এবং এখন তার মন্তব্যে দেখা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বজায় রেখে চীনের সম্ভাব্য আক্রমণকে প্রতিহত করার ইচ্ছা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানের সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা এবং তাইওয়ান সংক্রান্ত নীতি পুনর্গঠন করা হতে পারে। তবে চীনের দৃঢ় অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনকে বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের বক্তব্যে চীন-তাইওয়ান নীতি ও ভেনেজুয়েলা অভিযানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে তাইওয়ান চীনের জন্য সরাসরি হুমকি নয়, এবং শি জিনপিংয়ের সিদ্ধান্তই শেষমেশ দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরিণতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।



