স্ট্যান ওয়ারিন্কা, ত্রিকোটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন, ২০২৬ সালের শেষ ট্যুর মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের একক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ান টেনিস ফেডারেশনের ওয়াইল্ডকার্ড পেয়েছেন। ২০০২ সালে পেশাদার টেনিসে পা রাখার পর ১৬টি ট্যুর‑লেভেল শিরোপা জয় করা ৪০ বছর বয়সী এই শীর্ষ খেলোয়াড়, ডিসেম্বর মাসে জানিয়েছিলেন যে ২০২৬ তার ক্যারিয়ারের শেষ বছর হবে।
ওয়ারিন্কা ২০১৪ সালে মেলবোর্ন পার্কে তার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছিলেন, যা তার জন্য ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ওয়াইল্ডকার্ড পাওয়া তার জন্য বিশেষ গৌরবের বিষয় এবং শেষ ট্যুর বছরে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৫৬ নম্বরে অবস্থান করছেন এবং তার সর্বশেষ শিরোপা ২০১৭ সালে জেনেভা টুর্নামেন্টে জিতেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার তরুণ তারকা নিক কিরগিওস, যিনি পূর্বে ২০২২ সালে দেশীয় ডাবলসে থানাসি কোকিনাকিসের সঙ্গে শিরোপা জিতেছিলেন, এই বছর একক ইভেন্টে অংশ নিতে না চেয়ে ডাবলসে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সিজনে ধারাবাহিক আঘাতের কারণে তার র্যাঙ্কিং ৬৭০ তে নেমে এসেছে, তবে তিনি এখনও ফিট এবং কোর্টে ফিরে এসেছেন। কিরগিওস টেনিস অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনা শেষে ডাবলসে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ পাঁচ সেটের ম্যাচের শারীরিক চাহিদা তিনি এখনো সম্পূর্ণভাবে সামলাতে প্রস্তুত নন।
কিরগিওসের মতে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন তার জন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তবে তিনি এই মুহূর্তে এমন কোনো খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চান, যিনি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারবেন। তিনি ভবিষ্যতে আবার একক ইভেন্টে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং আগামী বছর আবার ট্যুরে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছেন।
স্ট্যান ওয়ারিন্কা ও নিক কিরগিওসের এই সিদ্ধান্তগুলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সূচিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। ওয়ারিন্কা একক ড্রয়ে কীভাবে পারফর্ম করবেন এবং কিরগিওস ডাবলসে কীভাবে সাফল্য অর্জন করবেন, তা টেনিস ভক্তদের জন্য বড় আকর্ষণ হবে। উভয় খেলোয়াড়ই তাদের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছেন, তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রস্তুত।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে ওয়ারিন্কা কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে তার উপস্থিতি টুর্নামেন্টের গুণগত মান বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কিরগিওসের ডাবলস অংশগ্রহণে তার সঙ্গী থানাসি কোকিনাকিসের সঙ্গে পুনরায় জুটি বাঁধা হতে পারে, যা ২০২২ সালের শিরোপা জয়ের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে। উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স টেনিসের ভক্তদের জন্য নতুন গল্প তৈরি করবে এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
এই বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সূচিতে ওয়ারিন্কা ও কিরগিওসের অংশগ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য শীর্ষ খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, যা টুর্নামেন্টকে আন্তর্জাতিক টেনিসের অন্যতম প্রধান ইভেন্ট হিসেবে গড়ে তুলবে। টেনিসের এই দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের শেষ মৌসুমের যাত্রা কিভাবে শেষ হবে, তা সময়ই বলবে।



