কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলনে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য‑সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর জবাবদিহিতা বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “৫৪ বছরের জঞ্জাল দেড় বছরের সরকারের পক্ষে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এই সময়ে যতটুকু সম্ভব তা করা হয়েছে। তাই দায়িত্ব ছাড়ার পর জবাবদিহিতা দিতে বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে সমস্যা নেই।”
রিজওয়ানা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গৃহীত কিছু সংস্কারকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পলিথিন নিষিদ্ধের আইন পূর্বে গৃহীত হলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় তা অকার্যকর ছিল; অন্তর্বর্তী সরকার এই আইনকে কার্যকর করে বাস্তবিক পরিবর্তন এনেছে। এছাড়া, সেন্টমার্টিনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে প্রাণবৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা আরেকটি সংস্কার হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পদক্ষেপগুলোর পক্ষে কোনো পরিবেশবাদী জনসাধারণে দৃশ্যমানভাবে দাঁড়ায়নি।
বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা তিন বছর ধরে বজায় রাখলে উল্লেখযোগ্য হ্রাস সম্ভব বলে রিজওয়ানা আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চারটি প্রধান নদী ও বিশটি খালের আশেপাশে মোট ৭৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে, পাশাপাশি দূষণ কমাতে প্রযুক্তিগত আপডেটের নির্দেশ দিচ্ছে।
প্রতিবাদী দল ও পরিবেশ সংস্থাগুলো রিজওয়ানার মন্তব্যের ওপর প্রশ্ন তুলেছে। তারা উল্লেখ করে, যদিও পলিথিন নিষেধাজ্ঞা ও সেন্টমার্টিনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবুও বাস্তবায়নের পর্যায় ও তদারকি যথেষ্ট নয় বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিছু পরিবেশ কর্মী বলেন, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কেবল সংক্ষিপ্তমেয়াদী পদক্ষেপে নির্ভর করা উচিত নয়। তারা দাবি করে, দূষণকারী শিল্পের সংখ্যা কমাতে কঠোর শাস্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রিজওয়ানার বক্তব্যকে সরকারের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তিনি যে দিকটি তুলে ধরেছেন, তা হল সরকার স্বল্পমেয়াদে অর্জিত সাফল্যকে বড়ো সংস্কার হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, যাতে পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক চিত্র উপস্থাপন করা যায়। তবে সমালোচকরা যুক্তি দেন, এই ধরনের মন্তব্য দায়িত্বশীলতা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, বিশেষ করে যখন পরিবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, “যদি অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগগুলো তিন বছর ধরে বজায় রাখতে পারে, তবে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “চারটি নদী ও বিশটি খালের আশেপাশে চিহ্নিত ৭৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর তদারকি চালু আছে, এবং আমরা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে এখনো আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি রোধ করা যায় এবং জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারগুলোকে রিজওয়ানা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও, তার মন্তব্যে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর জবাবদিহিতা না করা সম্ভব হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকার ভবিষ্যতে পরিবেশ সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে, রিজওয়ানার মতামতকে ব্যবহার করে দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে। তবে পরিবেশ সংস্থা ও নাগরিক সমাজের তীব্র পর্যবেক্ষণ এই ধরনের কৌশলকে সীমাবদ্ধ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, কেআইবি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রিজওয়ানা যে মূল বক্তব্য রেখেছেন, তা হল সরকার স্বল্পমেয়াদে অর্জিত পরিবেশ সংস্কারকে যথাযথভাবে চালু রাখতে পারলে বায়ুদূষণ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জোর দেন, ৭৫০টি দূষণকারী শিল্পের ওপর তদারকি চালু আছে এবং সেগুলোর কার্যকরী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই সংস্কারগুলোকে সমর্থনকারী কোনো পরিবেশবাদী জনসাধারণে দৃশ্যমানভাবে নেই। ভবিষ্যতে এই মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে, কতটা সরকার জবাবদিহিতা বজায় রাখবে এবং পরিবেশ সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়নে কতটা দৃঢ়তা দেখাবে তার ওপর।



