বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ রন্দীপ হুডা সম্প্রতি স্টেজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। স্টেজ একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যা হরিয়াণভি, বোজপুরি ও রাজস্থানি ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র, সিরিজ ও মাইক্রো‑ড্রামা প্রদানে বিশেষায়িত। প্ল্যাটফর্মের উত্তর ভারতের ৫.৫ মিলিয়ন পেইড সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এই উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হুডা তার জন্মভূমি ও সংস্কৃতিকে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে আসছেন; তিনি প্রায়ই নিজের মূলের কথা উল্লেখ করেন এবং এমন প্রকল্প বেছে নেন, যেগুলো বাস্তব জীবনের টুকরোকে প্রতিফলিত করে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে শিল্পের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে, যেখানে তিনি স্কেল বাড়াতে নিজের পরিচয়কে বদলাতে পছন্দ করেন না।
অভিনেতা হিসেবে হুডা বিশ্বাস করেন, সত্যিকারের গল্পের শক্তি তার প্রামাণিকতায় নিহিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে এমন চরিত্রে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। তার এই নীতি স্টেজের মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতিকে মূলধারার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
স্টেজ ২০১৯ সালে ইন্দোরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে নোয়াডার সদর দপ্তরে কাজ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্ল্যাটফর্মটি মূলত মূলধারার বড়ো চ্যানেলগুলোতে কম দেখা যায় এমন কণ্ঠস্বর ও বর্ণনাকে সমর্থন করে আসছে। মূলধারার সিনেমা ও সিরিজের পাশাপাশি এখানে ছোট ফরম্যাটের মাইক্রো‑ড্রামা ও স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের সংগ্রহ রয়েছে।
উত্তর ভারতের দ্রুত বর্ধমান সাবস্ক্রাইবার বেস স্টেজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ৫.৫ মিলিয়ন পেইড ব্যবহারকারী দেখায় যে অঞ্চলভিত্তিক কন্টেন্টের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং তারা উচ্চমানের, প্রিমিয়াম কন্টেন্টের জন্য প্রস্তুত। এই প্রবণতা হুডার মতো শিল্পীর জন্যও সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে।
হুডা ও স্টেজের অংশীদারিত্বকে শুধুমাত্র সেলিব্রিটি এন্ডোর্সমেন্ট হিসেবে নয়, বরং ভাষা ও পরিচয়ের সংরক্ষণে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুজনেই বিশ্বাস করেন, মাতৃভাষায় নির্মিত গল্পগুলোকে গ্লোবাল পর্যায়ে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট কিউরেশন ও মার্কেটিং কৌশলে প্রতিফলিত হবে।
রন্দীপ হুডা তার ক্যারিয়ারে “হাইওয়ে”, “সারবজিত”, “সিএটি” এবং “এক্সট্র্যাকশন” সহ বহু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তার চরিত্রগুলো প্রায়শই বাস্তব ভারতের কাঁচা, অপরিশোধিত রূপকে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তোলে। এই ধরনের কাজের পেছনে তার স্বতঃস্ফূর্ততা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রভাব স্পষ্ট।
হুডা সম্প্রতি প্রকাশ্যে জানান, তার জন্য এই সহযোগিতা ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ভাষা ও সংস্কৃতি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আমাদের পরিচয়ের গঠনশীল শক্তি।” এই বক্তব্যে তিনি তার নিজস্ব মূলের প্রতি সম্মান ও আধুনিক সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
স্টেজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হুডার মুখোমুখি প্রচারাভিযান ও সামাজিক মিডিয়া ক্যাম্পেইন নতুন কন্টেন্টের প্রচারকে ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি, তার অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে, যাতে আরও বৈচিত্র্যময় গল্প তৈরি করা যায়।
এই অংশীদারিত্বের ফলে অঞ্চলভিত্তিক নির্মাতাদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্টেজের বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠী ও হুডার জনপ্রিয়তা মিলিয়ে, ছোট স্কেলে কাজ করা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখকদের কাজকে বৃহত্তর পর্দায় তুলে ধরতে সহায়তা করবে। ফলে, হরিয়াণভি, বোজপুরি ও রাজস্থানি ভাষার শিল্পকলা আরও সমৃদ্ধ হবে।
উত্তর ভারতের দর্শকরা ইতিমধ্যে এই সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সামাজিক প্ল্যাটফর্মে হুডার সঙ্গে স্টেজের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং অনেকেই নতুন সিরিজ ও চলচ্চিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়া দেখায় যে স্থানীয় ভাষার কন্টেন্টের জন্য বাজারে শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, রন্দীপ হুডার স্টেজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিযুক্তি শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত গর্বের প্রকাশ নয়, বরং ভারতীয় বিনোদন জগতে ভাষা-সংস্কৃতির সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাঠকরা যদি এখনও হরিয়াণভি, বোজপুরি বা রাজস্থানি ভাষায় নির্মিত কন্টেন্ট না দেখে থাকেন, তবে স্টেজের লাইব্রেরি অন্বেষণ করে এই সমৃদ্ধ গল্পের জগতে প্রবেশ করা একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হতে পারে।



