ঢাকা, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এক সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকাশ করেছেন, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি একক ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সমগ্র দলীয় নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপিত হবে। এই মন্তব্যটি ভারতের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সময় উঠে আসে, যেখানে দু’দেশের সীমানা পারাপারকারী কর্মী ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বিষয়টি মূল议題 ছিল।
উল্লেখিত বৈঠকে, উপদেষ্টা জানান, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, যা একাধিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপারকারী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ও কূটনৈতিক কর্মীদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তৎপরতা এখনও সম্পূর্ণ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একক ব্যক্তির সুরক্ষা না পেলে পুরো টিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
এই উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। গত মাসে ভারতের সীমান্তে একটি বাণিজ্যিক গাড়ি আক্রমণের ফলে কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। একই সময়ে, একটি কূটনৈতিক মিশনের কর্মীকে নিরাপত্তা রক্ষাকারী দলের অপ্রতুল প্রস্তুতির কারণে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ঘটনা দু’দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তদুপরি, দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং প্রোটোকল শক্তিশালী করার জন্য নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও চলছে।
বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয়ের ওপর উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় সভা আহ্বান করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থা একত্রে কাজ করবে, এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই মন্তব্যটি কেবল নিরাপত্তা বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের সূচক। যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে অন্যান্য সহযোগিতামূলক প্রকল্প, যেমন বাণিজ্য, অবকাঠামো ও শক্তি ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। তাই উভয় পক্ষের জন্যই এই সমস্যার সমাধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ, আগামী কয়েক মাসে একটি যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং সীমানা পারাপার নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, কূটনৈতিক মিশনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা দল গঠন এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা উন্নত করার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দু’দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে। তারা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং এই ধরনের উদ্বেগ সমাধান না হলে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিবেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যটি নিরাপত্তা বিষয়ক দুর্বলতা প্রকাশের পাশাপাশি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানায়। উভয় সরকারই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি না থাকায় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলাকালে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় মূল চাবিকাঠি হবে।



