চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ২৫০ জনের বেশি নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়োগগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষকমণ্ডলীর কিছু অংশের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিচ্ছে।
জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর, সরকারী পরিবর্তনের ফলে উপাচার্য পদে মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এবং দুইজন সহ-উপাচার্য নিযুক্ত হন। নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পরের ১৫ মাসে, বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং তা বাস্তবায়ন করেছে।
প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে অন্তত ২৫টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ২৫০ জনের বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিক্ষক হিসেবে ৬৩ জন, কর্মকর্তা পদে ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ৭৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী অন্তত ১০০ জন অন্তর্ভুক্ত।
একই সময়ে, অতিরিক্ত ৩০৪ জনের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা শুক্রবার দুপুর ১১ টায় অনুষ্ঠিত হওয়া সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এদের মধ্যে শিক্ষক ৪৭ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ৯৪ জন অন্তর্ভুক্ত।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু শিক্ষক গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধূরী, ফোরামের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে চিঠি লিখে স্বজনপ্রীতি ও দলভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করে জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়োগের জন্য লিখিত আবেদন, মৌখিক সাক্ষাৎকার এবং প্রেজেন্টেশনসহ বহু ধাপ অনুসরণ করা হচ্ছে।
আখতার আরও জানান, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, যার ফলে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তিনি বলেন, এই পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কর্মশক্তি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
বিবেচনা করা হলে, প্রকাশিত ২৫টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মধ্যে এখনও কিছু পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। যদিও ২৫০ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, তবে বাকি বিজ্ঞপ্তিগুলোর প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সম্পূর্ণ সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
নিয়োগের বিশদে দেখা যায়, শিক্ষক পদে ৬৩ জনের নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তবে কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে মোট ২১২ জনের নিয়োগ হয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করার জন্য ইউজিসি (ইউনিভার্সিটি জুডিশিয়াল কমিটি) পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। নিয়োগের মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা থাকলে, ভবিষ্যতে অনুরূপ বিতর্ক কমে আসবে।
পাঠকগণ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানার ইচ্ছা রাখেন, তবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি ও সিন্ডিকেট সভার নোটিশগুলো পর্যবেক্ষণ করা উপকারী হবে। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে, মন্তব্যে জানিয়ে দিন; আপনার প্রতিক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি গঠনে সহায়তা করতে পারে।



