19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি-কে নিরাপত্তা উদ্বেগের চিঠি পাঠাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি-কে নিরাপত্তা উদ্বেগের চিঠি পাঠাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে একটি চিঠি প্রেরণ করে, যেখানে টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠানোর সম্ভাব্য হুমকি ও জাতীয় গৌরব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিসিবি-র মূল চিঠি রবিবার আইসিসি-কে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশি দলকে ভারত থেকে সরিয়ে অন্য দেশে ম্যাচ খেলার অনুরোধ করা হয়েছিল। আইসিসি-র পক্ষ থেকে পরবর্তীতে বিশদ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, ফলে আজকের চিঠিতে সেই ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে।

আইসিসি-র উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে উত্তরটি সরাসরি দলটির টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই সময়সীমা সংকীর্ণ।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বুধবারের একটি সভার পর আবারও স্পষ্ট করে বলেন, ভারত ভ্রমণ না করা হবে। তিনি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুলের সঙ্গে আলোচনার পর এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আসিফ নাজরুল উল্লেখ করেন, সরকার জাতীয় গৌরব বা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করবে না এবং ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার দাবি করেন। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠানো যায় না।

বহিরাগত বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আমরা অবশ্যই ভারত ছাড়া অন্য দেশে খেলব।

তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠানোর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে ম্যাচ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে অগ্রসর হওয়া কঠিন।

প্রাক্তন ক্যাপ্টেন তামিম ইকবালও এই বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বোর্ডকে বলছেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সব সিদ্ধান্তের আগে সংলাপের পথ অনুসরণ করা উচিত।

তামিমের মতে, সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে বোর্ডের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত আলোচনা করা জরুরি। একবার প্রকাশ্য মন্তব্য করলে তা থেকে সরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সবকিছুর আগে আসে। তাই নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আর্থিক বা রাজনৈতিক চাপের চেয়ে খেলোয়াড়দের মঙ্গলের কথা ভাবা উচিত।

বিসিবি-র আর্থিক অবস্থা উল্লেখ করে তামিম জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ই দেশের ক্রিকেটের মোট আয়ের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ গঠন করে। তাই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া হলে আর্থিক ক্ষতি বড় হবে।

আইসিসি যদি ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ মেনে না নেয়, তবে বাংলাদেশি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে হতে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

বর্তমানে বিসিবি-র দায়িত্ব হল আইসিসি-র উত্তর পাওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা। উভয় পক্ষের আলোচনার ফলাফলই শেষ পর্যন্ত দলটির অংশগ্রহণের চূড়ান্ত দিক নির্ধারণ করবে।

এই পরিস্থিতিতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিরাপত্তা, জাতীয় গৌরব এবং আর্থিক স্বার্থের সমন্বয় সাধন করে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments