18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগুস্তাভো পেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জানালেন

গুস্তাভো পেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জানালেন

কোলোম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেট্রো বুধবার ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থাকে (BBC) জানিয়ে জানান যে যুক্তরাষ্ট্রের কোলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা এখন বাস্তব হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অন্য দেশগুলোকে নিজের সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার দিকে ইঙ্গিত করে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন।

পেট্রোর এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উক্তি, যেখানে তিনি কোলোম্বিয়ার ওপর আক্রমণকে “ভাল” বলে প্রকাশ করে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আকাশীয় আক্রমণ চালায় এবং দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে, যা ল্যাটিন আমেরিকায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

পেট্রো এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের কাজকে নাজি গোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ট্রাম্পের শাসনামলে ICE-এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তিনি অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন।

ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থা এই বিষয়গুলোতে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পায়নি, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

পেট্রো ও ট্রাম্পের ফোনালাপ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, যার মধ্যে পেট্রো অধিকাংশ সময় কথা বলেন। তিনি আলোচনায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার প্রতি কোলোম্বিয়ার অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোকে প্রধান অগ্রাধিকার দেন।

কথোপকথনের পর ট্রাম্প তার সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশিয়াল-এ পোস্ট করে বলেন যে এই সংলাপ তার জন্য “মহান সম্মান” এবং শীঘ্রই কোলোম্বিয়ার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

একজন কোলোম্বিয়ান সরকারি সূত্র এই সংলাপকে উভয় পক্ষের রেটোরিকের ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দেয়। তবে পেট্রো পরের দিন আবারও উল্লেখ করেন যে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এখনও বিদ্যমান।

পেট্রো যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বে আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা এখন বিচ্ছিন্নতার পথে ধাবিত হচ্ছে, কারণ তার আক্রমণাত্মক নীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও ICE-এর কাজকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন।

পেট্রো জোর দিয়ে বলেন যে ICE-এর কার্যক্রম নাজি গোষ্ঠীর মতোই নিষ্ঠুর, যা মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং ল্যাটিন আমেরিকায় সহযোগিতার ভিত্তি ক্ষয় করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপকে কোলোম্বিয়ার নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে অভিবাসনকে অপরাধ ও মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি সমর্থন করা হয়েছে। তিনি কোলোম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার সরকারকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না করার অভিযোগে সমালোচনা করেন, যা তার কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি চালানোর যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এই পারস্পরিক সমালোচনা ও টেলিফোনিক আলোচনা ল্যাটিন আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার নতুন পর্যায়কে চিহ্নিত করে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন এই পরিস্থিতি উভয় পক্ষের জন্য সতর্কতা ও কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments