19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি শুরু করেছে

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি শুরু করেছে

ভেনেজুয়েলা interim প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের শাসনকালে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর থেকে দীর্ঘদিন দাবি করা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্প্যানিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকসহ পাঁচজন ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মাদুরোর অপহরণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রমের সমাপ্তি চেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার বন্দিদের মুক্তি দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দিয়েছে।

কারাকাস, যাকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাইকেতিয়া বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তিনি মাদুরোর হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে সন্দেহের মুখে ছিলেন। পরে তাকে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

স্প্যানিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে মানবাধিকার কর্মী রোসিও স্যান মিগুয়েলও অন্তর্ভুক্ত, যাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির দাবি করে আসছে। এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও প্রকাশ্যভাবে কোনো সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী চাপের ফলে, বিশেষত ২০২২-২০২৩ সালের বিরোধী প্রতিবাদে আটক হওয়া রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি তীব্রতর হয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই, হর্গে রদ্রিগেজ, যিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলের প্রধান, টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে শীঘ্রই আরও বড় সংখ্যক বন্দি মুক্তি পাবে, যদিও মোট সংখ্যা ও তাদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে বর্তমানে কয়েকশ রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছে, যার মধ্যে এখনো মাত্র অল্প সংখ্যককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হর্গে রদ্রিগেজের মতে, এই মুক্তি ‘জাতীয় ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও তাদের অনেক সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা এখনও কারাগারে বন্দি, তারা আশা প্রকাশ করেছে যে মুক্তি প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।

ডেলসি রদ্রিগেজ ও তার অন্তর্বর্তী সরকার মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা ভেনেজুয়েলার স্বার্থের বিরোধী হলেও, রদ্রিগেজের শাসন এই বিষয়ে বাধা দিতে পারে না বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

এল হেলিকোইডে কারাগারে এখনও প্রায় ৫০ থেকে ৮০ জন বন্দি রয়েছে, যা মাদুরোর নির্দেশে শীঘ্রই বন্ধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কারাগারটি দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত জেলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত, এবং এর বন্ধ হওয়া মানবাধিকার সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

ভবিষ্যতে, ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার কতটুকু রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে পারবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদে আগ্রহ এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এই প্রক্রিয়ার গতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান মুক্তি উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে। যদিও মুক্তিপ্রাপ্তদের সংখ্যা সীমিত, তবে এটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments