যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দূত জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বৈঠকের পর, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রিয়ার, বাংলাদেশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থার (USITAR) সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অংশগ্রহণ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার হালনাগাদ ভিসা বন্ড তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি নতুন দেশকে যুক্ত করেছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি১/বি২ ভিসা পেতে $5,000, $10,000 অথবা $15,000 বন্ড জমা দিতে হবে, যা আবেদনকারীর প্রোফাইল ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।
বৈঠকে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তা দেশের বাণিজ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
এছাড়া, চুক্তির মূল দিকগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। গ্রিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক হ্রাস বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাকি থাকা কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধান করে চুক্তিকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার জন্য একমত হয়। এই সমন্বয় ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের ফলে আগামী দিনে ব্যবসায়িক যোগাযোগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিশেষ করে বেসরকারি খাতের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC) তহবিলে প্রবেশাধিকার চেয়ে আবেদন করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে সহজতর করবে।
গ্রিয়ার এই অনুরোধে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, DFC তহবিলের ব্যবহার সহজতর করা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশি উদ্যোগের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বৈঠকের শেষে, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হ্রাস বা প্রত্যাহার দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য উভয় পক্ষই একমত হয়। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।
ভিসা বন্ডের শর্তাবলী সহজ হলে বাংলাদেশি ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা সরাসরি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সুযোগের বিস্তারে সহায়তা করবে। উভয় দেশের সরকার এই দিক থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরবর্তী ধাপে, উভয় দেশই নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে বন্ড নীতি, শুল্ক হ্রাস এবং DFC তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত থাকবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদী।



