18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাধারাবাহিক সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৩‑৪ টাকা বৃদ্ধি

ধারাবাহিক সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৩‑৪ টাকা বৃদ্ধি

ঢাকার প্রধান বাজারগুলোতে গত সপ্তাহে মিনিকেট এবং নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে গড়ে তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে। এই পরিবর্তনটি মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং শেওড়াপাড়া বাজারে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দাম বাড়ার মূল কারণ নতুন আউশ, আমন ও নাজিরশাইল পণ্যের বাজারে প্রবেশ, যদিও ঐ সময়ে দাম কমার প্রত্যাশা ছিল।

মিনিকেট চালের সব ব্র্যান্ডে মূল্য বৃদ্ধি লক্ষণীয়। মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের কেজি দামের সীমা ৮৩‑৮৪ টাকায় পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা ছিল। রশিদ ব্র্যান্ডের দাম ৭২ থেকে ৭৫ টাকায় উঠে গেছে, আর নন‑ব্র্যান্ডের দামের শীর্ষসীমা ৭০ টাকা, যা পূর্বের ৬৫ টাকার কাছাকাছি থেকে বাড়েছে। দামি মোজাম্মেল মিনিকেটের কেজি দামের পরিবর্তন ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায় সীমাবদ্ধ।

নাজিরশাইল চালের ক্ষেত্রেও সমান প্রবণতা দেখা গেছে। দেশীয় নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৭২‑৮৫ টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ৩‑৪ টাকা কম ছিল। আমদানি করা নাজিরশাইলের দাও ৭৫‑৭৮ টাকায় স্থিত হয়েছে, যেখানে পূর্বে তা ৭২‑৭৫ টাকার সীমায় ছিল।

বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল পণ্যের সরবরাহ সম্প্রতি শুরু হয়েছে এবং বিক্রেতারা জানান আগামী সাত দিন মধ্যে এই পণ্যের পরিমাণ বাড়বে। সাধারণত এই মৌসুমে নতুন চালের আগমনের ফলে পুরোনো চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বাড়ে, তবে এইবার নতুন চালের আগমনের আগেই পুরোনো চালের দাম তিন থেকে চার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্রেতারা সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন চালের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নাজিরশাইল চালের চাহিদা উচ্চ, তাই সরবরাহের ঘাটতি হলে মূল্যবৃদ্ধি তীব্র হতে পারে।

ভোক্তাদের মধ্যে দাম বাড়ার প্রতি অসন্তোষ দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের একজন ক্রেতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক উল্লেখ করেছেন, গত মাসে যে দামে চাল কিনেছিলেন, এখন কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। চালের মৌসুমে দামের স্থিতিশীলতা না থাকায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে।

চালের পাশাপাশি অন্যান্য মৌলিক পণ্যের দামের পরিবর্তনও রেকর্ড করা হয়েছে। মসুর ও মুগ ডালের দাম কেজিতে প্রায় পনেরো টাকা বাড়ে, ফলে মোট দাম ১৬০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মোটা মসুরের দামে দশ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের চাহিদা বাড়ার ফলে চা কোম্পানিগুলো কেজিতে ষাট থেকে সত্তর টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করেছে।

খোলা চিনির দামও গত সপ্তাহে কেজিতে একশ টাকায় পৌঁছেছে, যা পূর্বের দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই সব মূল্য পরিবর্তন মিলিয়ে গৃহস্থালী ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়ছে এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চালের দাম বাড়া সরাসরি গৃহস্থালী বাজেটকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য। যদি সরবরাহের গতি প্রত্যাশিত না হয়, তবে দাম আরও বাড়তে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি সূচকে ঊর্ধ্বগতি ঘটাবে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, নতুন চালের পরিমাণ যদি সময়মতো পৌঁছায় এবং বাজারে সমানভাবে বিতরণ হয়, তবে দাম স্থিতিশীল হতে পারে। তবে অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া বা লজিস্টিক সমস্যার কারণে সরবরাহে বাধা পড়লে, দাম পুনরায় তীব্রভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়।

সংক্ষেপে, এই সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দামের গড় বৃদ্ধি তিন থেকে চার টাকা, যা ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক মূল্যস্তরে প্রভাব ফেলবে। বাজারের সরবরাহ অবস্থা ও মৌসুমী চাহিদা মূল্য গতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে, তাই নীতিনির্ধারকদের জন্য পর্যবেক্ষণ ও হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments