20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপে নৈতিকতা একমাত্র সীমা, সেনেটের সীমাবদ্ধতা প্রস্তাব

ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপে নৈতিকতা একমাত্র সীমা, সেনেটের সীমাবদ্ধতা প্রস্তাব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বব্যাপী সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব নৈতিকতা একমাত্র বাধা। এই মন্তব্যটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় এবং এফপি সংস্থা এটিকে প্রতিবেদন করেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়সীমা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, কারণ এটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হঠাৎ সামরিক অভিযান দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করার কয়েক দিন পরের। সেই অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তার সামরিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তার নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত চিন্তা ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই এবং তিনি মানুষের ক্ষতি করতে চান না। তিনি যুক্তি দেন, তার নৈতিকতা যদি না থাকে তবে তিনি যেকোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।

এই অবস্থানকে রক্ষণশীল পার্টির কিছু সদস্য সমালোচনা করে, যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে কাজ করতে হবে। তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এর রায়কে উপেক্ষা করা দেশীয় নীতি গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আইসিসি-র সদস্য নয় এবং বারবার আইসিজে-র রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। এই আইনি অবস্থান ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও আইনি চ্যালেঞ্জে ভরা। তিনি দুইবার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি ফেডারেল অভিযোগের অধীন। এসব মামলায় তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

নিজেকে “শান্তির প্রেসিডেন্ট” বলে দাবি করে ট্রাম্প নোবেল পুরস্কারের প্রত্যাশা প্রকাশ করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। তার নীতি ও কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে।

জুন মাসে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আক্রমণ করার নির্দেশ দেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার নিরাপত্তা কৌশল ও শক্তি প্রদর্শনের ইচ্ছা স্পষ্ট।

মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পর থেকে ট্রাম্পের রেটোরিক আরও তীব্র হয়েছে। তিনি কলম্বিয়া, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশকে হুমকি জানিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তিনি ন্যাটো জোটের রক্ষা ও অঞ্চল দখলের মধ্যে পছন্দের প্রশ্ন তুলেছেন, যদিও তিনি স্পষ্ট উত্তর দেননি। তার এই দ্বিমুখী অবস্থান ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কংগ্রেসের কিছু সদস্য, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কিছু প্রতিনিধি, ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেট ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ সীমাবদ্ধ করার একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

প্রস্তাবটি যদি পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়, তবুও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা থাকায় তার বাস্তবায়ন অনিশ্চিত রয়ে যায়। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ট্রাম্পের সম্পদশালী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িক পটভূমি তার রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments