বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোবাইল আদালত চারজন শিক্ষকের উপর পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা আর এক শিক্ষকের মুচলেকা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। জরিমানা আর সতর্কতা উভয়ই চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাহী হাকিম তানভীর রাব্বি প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম শিক্ষক হলেন দৈয়ারা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ, যাকে পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাহরাস্তি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলম, এবং করফুলেন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারীকে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়েছে।
এই চারজন শিক্ষকের মোট জরিমানা দুই লাখ টাকা, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ও একজন বিএনপি প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত, যা নির্বাহী হাকিমের রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, রাগৈ ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ও জামায়াতে ইসলামের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাঈনুদ্দিনকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মুচলেকা বলতে এখানে নির্বাচনী সময়ে অনুপযুক্ত আচরণ বা অশালীন কথাবার্তা বোঝানো হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থকরা জরিমানা পেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদপুর-৫ আসনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নির্বাহী হাকিমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাহী হাকিম তানভীর রাব্বি এই সিদ্ধান্তে জোর দিয়ে বলেন, সকল প্রার্থী ও সমর্থককে আইন মেনে চলতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অনিয়ম না করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি উভয়ই এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের শাস্তি নির্বাচনী প্রচারণার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং ভোটারদের মধ্যে ন্যায়বিচারের ধারণা জোরদার করবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্ক হতে হবে।
এই ঘটনার পর, চাঁদপুর-৫ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে সাময়িক শীতলতা দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোটাররা উল্লেখ করেছেন, শাস্তি পাওয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত প্রচারণা বা অশান্তি প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
অধিকন্তু, নির্বাচনী কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মোবাইল আদালতের ভূমিকা বাড়ানো হতে পারে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত শাস্তি প্রদান এবং আইনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
এই ঘটনায়, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে নির্বাচনী সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল প্রার্থী ও সমর্থককে আহ্বান জানানো হয়েছে, আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটিং নিশ্চিত করা।
শেষে, নির্বাচনী পর্যায়ে আইনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরণের লঙ্ঘন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে।



