টাঙ্গাইল জেলার রসুলপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে ১০ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত অকেজো বিস্ফোরক পদার্থ ধ্বংসের কাজ চালু হবে। এই কাজের সময়সূচি ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) কর্তৃক বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিস্ফোরক পদার্থের ধ্বংসকাজ প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। ধ্বংসকাজের সময় রেঞ্জের চারপাশের তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এই ধরনের সীমাবদ্ধতা অপরিহার্য। রেঞ্জের নিকটবর্তী গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়ে তাদের গৃহস্থালির কাজ বা যাতায়াতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
বিস্ফোরক পদার্থের ধ্বংসকাজের জন্য ব্যবহৃত হবে আধুনিক ধ্বংসযন্ত্র ও নিরাপদ পদ্ধতি, যা পূর্বে একই রকম কার্যক্রমে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। রেঞ্জের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংসকাজের সময় কোনো ধরণের অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণ বা ধোঁয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেঞ্জের চারপাশে গৃহস্থালির গৃহ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি জমি রয়েছে, তাই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগও এই সময়ে অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখবে। জরুরি সেবা ও চিকিৎসা সুবিধা রেঞ্জের নিকটে স্থাপন করা হবে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
স্থানীয় জনগণকে জানানো হয়েছে যে, ধ্বংসকাজের সময় রেঞ্জের প্রবেশদ্বার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে এবং কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা যানবাহনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। রেঞ্জের নিরাপত্তা কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত টিম গঠন করবে।
বিস্ফোরক পদার্থের ধ্বংসের মাধ্যমে রেঞ্জের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটি দেশের সামরিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধ্বংসকাজের সময় রেঞ্জের আশেপাশে কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বা অবৈধ কাজের অনুমতি থাকবে না। তাই, সংশ্লিষ্ট সকলকে এই নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনও এই সময়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সড়ক বন্ধ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রসুলপুরের প্রধান সড়কগুলোতে বিকল্প পথের নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে যাতায়াতের অস্বস্তি কমে।
বিস্ফোরক ধ্বংসের কাজ শেষ হওয়ার পর রেঞ্জের নিরাপত্তা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই মূল্যায়নটি ভবিষ্যতে অনুরূপ কাজের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
রসুলপুরের বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, ধ্বংসকাজের সময় কোনো অপ্রয়োজনীয় কণ্ঠস্বর বা শোরগোল না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। এভাবে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ধ্বংসকাজের মাধ্যমে রেঞ্জের পরিবেশে কোনো অবশিষ্ট অকেজো পদার্থ থাকবে না এবং ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। শেষ পর্যন্ত, রেঞ্জের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই ধরনের নিয়মিত ধ্বংসকাজ অপরিহার্য।



