ড. খলিলুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শীর্ষ স্তরের কূটনৈতিক বৈঠক ও নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সফরটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার জন্য নির্ধারিত।
ড. রহমান ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর তিনি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। এই বৈঠকগুলোতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়।
সফরের সময় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডারসেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরও একই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও বিশেষ দূত সার্জিও গোরও বৈঠকে অংশ নেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে সহায়ক।
ড. রহমানের সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠক নির্ধারিত। এই বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য ও সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করা হবে। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন।
নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠান ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পরিচালনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অথবা উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যাঙ্গডা। ড. রহমানকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথের পর তিনি আগামী সপ্তাহে ঢাকা পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছেন। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি শীঘ্রই বাংলাদেশে তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই সময়ে দু’দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ড. রহমানের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গড়ে তোলা যাবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিকরণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও সহায়তা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় দুই দেশই পারস্পরিক সুবিধা বাড়াতে নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেছে। এই কাঠামোটি বাণিজ্যিক বাধা কমিয়ে উভয় দেশের রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক নীতি সমন্বয় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন। ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য নতুন উদ্যোগের সূচনা হবে।
সফরের ফলস্বরূপ, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের উচ্চস্তরের সংলাপ দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেবে।



