20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদেহরাদুনে ত্রিপুরার দুই ছাত্রের ওপর হিংসা, একজনের মৃত্যু, পাঁচজন গ্রেফতার

দেহরাদুনে ত্রিপুরার দুই ছাত্রের ওপর হিংসা, একজনের মৃত্যু, পাঁচজন গ্রেফতার

দেহরাদুন, উত্তরাখণ্ডের রাজধানী, ৯ ডিসেম্বর একটি বাজারে দুই ভাই, অঞ্জেল ও মাইকেল চকমা, ত্রিপুরা থেকে শিক্ষার উদ্দেশ্যে আসা, হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একদল পুরুষ তাদের কাছে জাতিগত গালি ও অবমাননা করে, যখন ভাইজনেরা তা প্রত্যাখ্যান করে, তখনই হিংসা শুরু হয়। মাইকেলকে ধাতব ব্রেসলেট দিয়ে মাথা আঘাত করা হয়, আর অঞ্জেলকে ছুরিকায় গুলি করা হয়। মাইকেল পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে অঞ্জেল ১৭ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

উত্তরাখণ্ডের পুলিশ ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করেছে। তবে পুলিশ এই আক্রমণকে জাতিগত প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত না করার কথা জানিয়েছে, যা চকমা পরিবার দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। পরিবার দাবি করে যে আক্রমণকারীরা সরাসরি জাতিগত বৈষম্যের ভিত্তিতে কাজ করেছে।

এই ঘটনার পর দেহরাদুনসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদে মানুষ একত্রিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা উত্তর-পূর্বের মানুষদের বড় শহরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান অনুসন্ধানে মুখোমুখি হওয়া বৈষম্য, জাতিগত গালি, এবং নাগরিক স্থানে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, তাদের চেহারা, খাবারের অভ্যাস ও পূর্বধারণার কারণে বাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, এবং অনেকেই নির্দিষ্ট পাড়া-প্রতিবেশে একত্রিত হয়ে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহায়তা খুঁজে পান।

অধিকন্তু, এই ধরনের হিংসা কেবল একক ঘটনা নয়; পূর্বে উত্তর-পূর্বের নাগরিকদের বিরুদ্ধে জাতিগত সহিংসতার বহু উদাহরণ রয়েছে। তবে অঞ্জেলের মৃত্যুর মতো মারাত্মক অপরাধ সমাজে নিরাপত্তা ও সমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, তদন্তে জাতিগত প্রেরণাকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

পুলিশের মতে, গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়ের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার অগ্রগতি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে অপরাধীদের বিচার হবে। দেহরাদুনের স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।

এই ঘটনার পর উত্তর-পূর্বের ছাত্র ও কর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। তারা দাবি করছে যে, জাতিগত বৈষম্যকে দমন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ত্বরান্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা উচিত।

সামগ্রিকভাবে, অঞ্জেল চকমার মৃত্যু একটি কঠিন স্মরণীয় ঘটনা, যা দেশের বিভিন্ন অংশে বসবাসকারী উত্তর-পূর্বের মানুষের মুখোমুখি হওয়া সামাজিক ও আইনি চ্যালেঞ্জকে উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের হিংসা রোধে যথাযথ নীতি ও আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments