20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকারওয়ান বাজারের টার্ফ যুদ্ধের সন্দেহে মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধ মৃত্যু

কারওয়ান বাজারের টার্ফ যুদ্ধের সন্দেহে মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধ মৃত্যু

দিল্লি-সদৃশ টেজগাঁও এলাকায় বুধবার রাত ৮টার কাছাকাছি শ্যুটিং ঘটায় প্রাক্তন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। মুসাব্বিরকে গুলি করে নিহত করা হয়েছে কজি নাজরুল ইসলাম এভিনিউতে হোটেল সুপারস্টার নিকটবর্তী গলিতে। তার সঙ্গে ছিলেন তেজগাঁও ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদ, যাকে গুলির আঘাতে আঘাত লেগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তার স্বামীকে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে হুমকির উৎস বা কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। তেজগাঁও বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ইবনে মিজান জানান, মুসাব্বির এই হুমকি কখনোই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জানায়নি।

শুটিংয়ের সময় মুসাব্বির একা ছিলেন না; তার সঙ্গে ছিলেন তেজগাঁও ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদ, যাকে গুলির আঘাতে গুলিবিদ্ধ করা হয়। মাসুদের আঘাতের পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা চলছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মুসাব্বিরের দেহ দ্রুতই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মুসাব্বিরের মৃত্যু ঘটার পরপরই তার স্ত্রী তেজগাঁও থানা-তে গৃহহত্যা মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি চার থেকে পাঁচজন অপরিচিত আক্রমণকারীর নাম উল্লেখ করেন, যাদের সনাক্ত করা এখনো বাকি। মামলাটি এখন তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহে লিপ্ত।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুসাব্বিরের পটভূমি উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০২০ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ক্যান্ডিডেট হিসেবে তেজগাঁও ওয়ার্ড-২৬-এ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার পূর্বের স্বেচ্ছাসেবক দলীয় পদবী, ঢাকা উত্তর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, যুক্ত রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, গুলিবিদ্ধের পেছনে কোনো উচ্চপর্যায়ের অপরাধী জড়িত থাকতে পারে, যা সম্ভবত ঘাটতি আদায় ও কাউন্সিলর নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের অপরাধমূলক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে টার্ফ যুদ্ধ, বিশেষ করে কারওয়ান বাজারের নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

মুসাব্বিরের পরিবার ও পার্টি কর্মীরা জানান, তিনি আওয়ামী লীগ শাসনকালে বহুবার জেলখানায় ছিলেন এবং রাজনৈতিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেফতার হয়েছেন। এই তথ্যগুলো তার রাজনৈতিক জীবনের কঠিন দিকগুলোকে তুলে ধরে, যা সম্ভবত তার মৃত্যুর পেছনে অতিরিক্ত প্রেরণা যোগাতে পারে।

একজন সিনিয়র ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ কর্মকর্তার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রকাশ্যে না করে, তিনি জানান, পুলিশ টার্ফ যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং কারওয়ান বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সহ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে প্রশ্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ফুটপাথের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই অবৈধ দখল এবং বাজারের নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘর্ষের সম্ভাবনা, মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষক অনুমান করছেন।

বর্তমানে মুসাব্বিরের গুলিবিদ্ধের তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সকল সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments