যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খালিলুর রহমানের পাঁচ দিনের সফরের সময় আলোচনা চালিয়ে যাবে। এ সফরে প্রায় পাঁচ হাজার অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবর্তন এবং আমেরিকান পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
খালিলুর রহমান বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান এবং পরের দিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক বিষয়ক উপ-রাষ্ট্র সচিব অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষয়ক সহ-রাষ্ট্র সচিব পল কাপুরও অংশ নেবেন বলে জানা যায়।
প্রাথমিকভাবে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের প্রধান এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ envoy সার্জিও গোরে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, তবে তিনি বুধবার রাতেই দিল্লিতে ফিরে যান। ফলে, খালিলুরের সঙ্গে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেনডন লিঞ্চের সাক্ষাৎ হবে, যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবর্তনকে দ্রুততর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত বছর প্রায় তিনশো অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর একই সংখ্যক মানুষ এখনো প্রত্যাবর্তনের জন্য যোগ্য। সরকারী অনুমান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের মামলা আদালতে চলমান।
বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশকে আমেরিকান পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিন থেকে অগ্রাধিকারপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খালিলুরের সফরের শেষ দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত-নিযুক্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশে আসার তারিখ ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত। এই সাক্ষাৎকারে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, খালিলুরের দল প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার জন্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপে গড়ে তুলবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবে। উভয় দেশের সরকারী কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আলোচনাগুলো ভবিষ্যতে দু’দেশের কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং অভিবাসন নীতিতে প্রভাব ফেলবে।
এই আলোচনার ফলাফল কিভাবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াকে সহজ করবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে।



