লস এঞ্জেলেসে ১৮ ডিসেম্বর, ৮৩ বছর বয়সে রিচার্ড দিমিত্রি আর না থাকেন। দীর্ঘ সময়ের হৃদয় ও ফুসফুসের রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের পর পরিবার জানিয়ে দেয় তার মৃত্যু। দিমিত্রি নিউ ইয়র্কের একজন আসিরিয়ান বংশোদ্ভূত শিল্পী, যার ক্যারিয়ার পাঁচ দশক জুড়ে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটারকে ছুঁয়েছে।
১৯৪২ সালের ২৭ জুন, নিউ ইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে জন্ম নেওয়া দিমিত্রি ছোটবেলায়ই পিতার ত্যাগের মুখোমুখি হন; তার বাবা জ্যাকব যখন তিনি শৈশবে ছিলেন তখনই পরিবার ছেড়ে যান। মা মেরি ও তার দাদীর যত্নে বড় হওয়া দিমিত্রি, ইয়ঙ্কার্স হাই স্কুল শেষ করে ১৯৬২ সালে আমেরিকান একাডেমি অফ ড্রামাটিক আর্টস থেকে স্নাতক হন।
শিক্ষা শেষ করার পর ১৯৬৩ সালে তিনি অফ‑ব্রডওয়ে ‘দ্য ইমোরালিস্ট’ রিভাইভালে বাশির চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাকে থিয়েটার জগতে পরিচিত করে। এরপরের দশকে তিনি ব্রডওয়েতে তিনবার মঞ্চে নামেন; ১৯৬৮ সালে ‘দ্য গাইড’ ও হাল প্রিন্সের ‘জোরবা’ তে হেরশেল বার্নার্ডির সঙ্গে কাজ করেন, আর ১৯৭২ সালে মেলিনা মেরকুরির সঙ্গে ‘লাইসিস্ট্রাটা’ তে অংশ নেন।
১৯৭৫ সালে তিনি টেলিভিশন জগতে প্রবেশ করেন, যখন এবিসি সিরিজ ‘হোয়েন থিংস ওয়ার রটেন’ এ তিনি দুটো চরিত্র—বার্ট্রাম ও রেনাল্ডো—একসাথে অভিনয় করেন। এই শোটি রবার্ট হুডের প্যারোডি হিসেবে তৈরি হয়েছিল, তবে মাত্র তেরটি এপিসোডের পর বন্ধ হয়ে যায়। তবুও দিমিত্রির দ্বৈত ভূমিকায় তার কমেডি দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯৮৪ সালে অ্যামি হেকারলিং পরিচালিত ‘জনি ডেঞ্জারাসলি’ ছবিতে দিমিত্রি রোমান মোরোনি নামের নৈশক্লাবের মালিকের ভূমিকায় উপস্থিত হন; তার কথাবার্তা ও ম্যালাপ্রপিজম দর্শকদের হাসি এনে দেয়। এরপর ১৯৮৯ সালে ‘লেট ইট রাইড’ ছবিতে তিনি ‘জনি চিজবার্গার’ নামের জুয়াড়ি চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে রিচার্ড ড্রেইফাস ও ডেভিড জোহানসেনের সঙ্গে কাজ করেন।
অভিনয় ছাড়াও দিমিত্রি টেলিভিশন লেখক ও প্রযোজক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ফক্স নেটওয়ার্কের ‘ড্যাডি ডিয়ারেস্ট’ সিটকমের সহ-স্রষ্টা হিসেবে তিনি রিচার্ড লুইস ও ডন রিকলেসকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারিক কমেডি গড়ে তোলেন। তদুপরি তিনি সিবিএসের ‘হাউস কলস’ ও এনবিসির ‘গোয়িং বানানাস’ সিরিজের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, যেখানে শেষটির মূল চরিত্র ছিল অরাংগুটান রোশানা বানানা।
১৯৭৩ সালে নিউ ইয়র্কের কুইন্স কলেজে অভিনয় শিক্ষাদানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দিমিত্রি তরুণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণে মনোনিবেশ করেন। শিক্ষকের ভূমিকায় তিনি তার শিল্পজীবনের অভিজ্ঞতা ও কমেডি টেকনিককে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যা তার বহুমুখী ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে।
দিমিত্রির ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বলা যায়, তিনি টেলিভিশন, সিনেমা ও থিয়েটার—তিনটি ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন। তার চরিত্রগুলো প্রায়শই হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক রঙিনতা প্রকাশ করেছে, আর লেখক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি কমেডি ধারার বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পরিবারের প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, দিমিত্রি দীর্ঘ সময়ের হৃদয় ও ফুসফুসের রোগের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বিদায়ের পর শিল্প জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে তার কাজ ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।



