১ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন, স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মোট ১৭১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তথ্য আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জানিয়েছে।
অভিযানটি আট দিনের মধ্যে একাধিক শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমন্বিতভাবে চালানো হয়, যেখানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তি, ডাকাত গোষ্ঠীর সদস্য, কিশোর গ্যাং এবং চোরাকারবারি জড়িত সন্দেহভাজনদের হাতে ধরা পড়ে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরণের ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, দশটি ককটেল, ধারালো অস্ত্র এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলোকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের সরবরাহ চেইনের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আবিষ্কৃত অস্ত্র ও মাদকের পরিমাণ নির্দেশ করে যে এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ককটেল এবং ধারালো অস্ত্রের উপস্থিতি শহুরে অপরাধের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করার পর, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নিশ্চিত করেছে যে, সকল প্রয়োজনীয় আইনি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।
এই গ্রেফতারগুলোকে ভিত্তি করে পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে এবং অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে। তদন্তকারী দলগুলো এখনো অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে অপরাধের সম্পূর্ণ চিত্র উন্মোচিত হয়।
যৌথ অভিযানটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বে মোহাম্মদপুর-লালবাগে একই রকম বিশেষ অভিযানে ৩৮ জন গ্রেফতার হওয়ার পর, এই নতুন অভিযানটি আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে।
অধিকাংশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে আনা হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা আদালতের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা যেতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।



