18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যনাইমা চৌধুরী ১৭ বছর পাবনা মানসিক হাসপাতালে কাটিয়ে শেষ করেছেন জীবন

নাইমা চৌধুরী ১৭ বছর পাবনা মানসিক হাসপাতালে কাটিয়ে শেষ করেছেন জীবন

১৪ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে ২৫ বছর বয়সী নাইমা চৌধুরীকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ১৭ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানের চারদেয়ালের মধ্যে ছিলেন। গত সোমবার, হাসপাতালে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়; আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় দেহটি এখনো বরফে সংরক্ষিত অবস্থায় মর্গে রাখা আছে।

হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, নাইমা চৌধুরীর স্বজনরা কখনোই তাকে হাসপাতালে থেকে বের করে নিতে আসেননি। ভর্তি সময়ে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরগুলো বর্তমানে সক্রিয় নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির সময় ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছিল। স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতাল পূর্বে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও, কেউই উপস্থিত হননি।

নাইমা চৌধুরীর শারীরিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ছোট চুল কেটে সুন্দর চেহারার ছিলেন। ভর্তি হওয়ার প্রথম দিকে তাকে কেবিনে রাখা হয় এবং স্বজনরা কেবিনের ভাড়া প্রদান করে তার খবর নিতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আগ্রহ কমে যায় এবং তিনি ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হন। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তার ত্বকের রঙ ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে যায়, খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দেয় এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। তার রোগ নির্ণয়ে স্কিজোফ্রেনিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেজবাহুল ইসলাম হাইকোর্টে একটি রিটের মাধ্যমে মানসিক রোগীকে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে ছিলেন। তবে নাইমা চৌধুরীর ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িত হয়নি; তিনি মৃত্যুর সময়ও কোনো আত্মীয়ের সান্নিধ্য পেতে পারেননি।

মৃত্যুর পর, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মো. সেলিম মোরশেদ জানিয়েছেন যে স্বজনদের সন্ধানে নথিতে উল্লেখিত এক ভাইয়ের মোবাইল নম্বরটি আর ব্যবহারযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট থানায় মৃত্যুর তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং স্বজনদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি থানার মাধ্যমে কোনো আত্মীয় পাওয়া না যায়, তবে স্থানীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে, যা আনজুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

হাসপাতালের নথিতে নাইমার পিতার নাম উল্লেখ রয়েছে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হয়নি। রোগীর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক অবস্থার ফলে পরিবারিক সমর্থনের অভাব এবং যথাযথ পুনর্বাসনের সুযোগের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা মানসিক রোগী ও তাদের আত্মীয়দের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সহায়তার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রোগীর অধিকার রক্ষার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। রোগীর পরিচয় নিশ্চিত করা, আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং যথাযথ পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করা এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে।

আপনার মতামত কী? মানসিক রোগীকে পরিবারে ফিরিয়ে আনার জন্য কী ধরনের নীতি ও সেবা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments