মিশিগান রাজ্যের হ্যামট্রমক শহরে বুধবার শহর কাউন্সিলের অনুমোদনে ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’কে বেগম খালেদা জিয়ার নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পরিচয় পরিবর্তন করে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে সম্মান জানাতে চায়।
হ্যামট্রমকের সিটি কাউন্সিলের সভায় জোসেফ ক্যাম্পাও ও কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যে অবস্থিত এই অংশের নামকরণ প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। প্রস্তাবটি শহরের চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলরের সক্রিয় প্রচেষ্টার ফল, যারা দীর্ঘদিনের সম্প্রদায়িক কাজের মাধ্যমে এই পদক্ষেপকে সম্ভব করেছেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নামকরণকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। পোস্টে বলা হয়েছে, হ্যামট্রমকের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তটি দেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
হ্যামট্রমক শহরটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বহুমাত্রিক নগর, যেখানে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে সিটি কাউন্সিলে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য রয়েছে, যারা স্থানীয় নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সমর্থন ছাড়া এই নামকরণ সম্ভব হতো না।
এই পদক্ষেপটি প্রথমবার নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সড়ককে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে নামকরণ করা হয়েছে। শিকাগো শহরে পূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়ক নামকরণ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
হ্যামট্রমকের এই নতুন নামকরণকে কিছু বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যের আন্তর্জাতিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক পরিচয়কে দৃঢ় করে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক যুক্তি দেন যে সড়কের নামকরণে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করা স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তারা দাবি করেন, পাবলিক স্পেসের নামকরণে সর্বজনীন স্বীকৃত ব্যক্তিত্বের নাম বেছে নেওয়া উচিত, যাতে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত না থাকে।
হ্যামট্রমকের সিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র এই উদ্বেগগুলোকে স্বীকার করে বলেন, নামকরণ প্রক্রিয়ায় সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই পদক্ষেপটি শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার একটি উদাহরণ।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই পরিবর্তনকে কেবল একটি সড়কের নতুন নাম নয়, বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের স্বীকৃতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াবে।
ভবিষ্যতে, হ্যামট্রমকের এই নামকরণ অন্যান্য শহরে অনুরূপ উদ্যোগের পথ প্রশস্ত করতে পারে। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির চাহিদা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপটি দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখে। দু’দেশের সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, রাজনৈতিক নেতাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে সমৃদ্ধ করবে।
সারসংক্ষেপে, মিশিগানের হ্যামট্রমকে খালেদা জিয়ার নামে সড়ক নামকরণ একটি স্থানীয় সিদ্ধান্ত হলেও, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। এই পদক্ষেপের পরিণতি কীভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



