বৃহস্পতি নক্ষত্রের নিকটবর্তী বিশাল লাল সুপারজায়ান্ট বেটেলগিউজের বায়ুমণ্ডলে একটি অস্বাভাবিক গ্যাসিক ধারা সনাক্ত হয়েছে, যা গবেষকরা তার নিকটবর্তী সঙ্গীর কার্যকলাপের ফলাফল বলে অনুমান করছেন। এই পর্যবেক্ষণটি অ্যালমা (ALMA) রেডিও টেলিস্কোপের সর্বশেষ ডেটা ব্যবহার করে করা হয় এবং গ্যাসের গতি ও ঘনত্বের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে একটি ‘ওয়েক’ বা ‘ধ্বংসাবশেষ’ দেখা গেছে।
বেটেলগিউজ পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং তার শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর কাছাকাছি বলে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার অপ্রত্যাশিত অন্ধকারে পড়া এবং পৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এই নতুন গবেষণায় দেখা গ্যাসিক ধারা তার বায়ুমণ্ডলের বাইরে একটি ছোট সঙ্গীর গৌণ প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা তার চারপাশের গ্যাসকে টেনে নিয়ে একটি স্পাইরাল আকারের চিহ্ন রেখে গেছে।
অ্যালমা ব্যবহার করে গৃহীত উচ্চ রেজোলিউশনের চিত্রে কোয়ান্টাম মোলিকুলার কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) নির্গমন রেডিয়েশন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যেখানে গ্যাসের গতি ধীর থেকে দ্রুত পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়। গবেষকরা এই গতি পরিবর্তনকে সঙ্গীর গৌণ আকর্ষণীয় শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা বেটেলগিউজের গ্যাসিক স্তরকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়। গ্যাসের এই ধারা প্রায় ১০০ অস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU) দূরত্বে বিস্তৃত, যা সূর্যের গ্রহমণ্ডলীয় দূরত্বের তুলনায় বেশ বড়।
সঙ্গীর প্রকৃতি এখনও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়নি, তবে গ্যাসিক ধারা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার ভর প্রায় এক-দুই গুণ সূর্যের ভরের কাছাকাছি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। সঙ্গীর কক্ষপথের সময়কাল প্রায় ২০০-৩০০ বছর বলে গণনা করা হয়েছে, যা বেটেলগিউজের বিশাল বায়ুমণ্ডলকে নিয়মিতভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। এই ধরনের দ্বৈত ব্যবস্থা সুপারজায়ান্ট নক্ষত্রের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বিরল, ফলে বেটেলগিউজের ভবিষ্যৎ বিবর্তন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
বেটেলগিউজের গ্যাসিক ক্ষয় প্রক্রিয়া তার শেষের দিকে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সঙ্গীর উপস্থিতি গ্যাসের ক্ষয়কে অস্থির করতে পারে, ফলে তার শেষের বিস্ফোরণ (সুপারনোভা) কখন এবং কীভাবে ঘটবে তা পরিবর্তিত হতে পারে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে সঙ্গীর গৌণ প্রভাব বেটেলগিউজের সাম্প্রতিক অন্ধকারে পড়া ঘটনাগুলোর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে, যদিও তা একমাত্র কারণ নয়।
এই গবেষণার ফলাফলটি আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উচ্চ রেজোলিউশনের পর্যবেক্ষণ ও তাত্ত্বিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে সঙ্গীর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে বেটেলগিউজের নিকটবর্তী পরিবেশের এই নতুন দৃষ্টিকোণ তার শেষের দিকে গৃহীত পরিবর্তনগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে।
বেটেলগিউজের মতো বিশাল নক্ষত্রের গ্যাসিক পরিবেশে সঙ্গীর প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। পাঠকরা যদি এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতি আগ্রহী হন, তবে ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলাফলকে নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



