22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানগাছের ছাল মাইক্রোবায়োম গ্রীনহাউস গ্যাস শোষণ করে

গাছের ছাল মাইক্রোবায়োম গ্রীনহাউস গ্যাস শোষণ করে

গাছের ছালেও এমন মাইক্রোঅর্গানিজম বাস করে যা হাইড্রোজেন, মিথেন এবং কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো গ্রীনহাউস গ্যাস শোষণ করে। এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্সে জানুয়ারি ৮ তারিখে প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে। গাছের মূল কাজ হল কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ, তবে ছাল‑মাইক্রোবায়োমের ভূমিকা এখন নতুনভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

মিথেনের তাপীয় প্রভাব কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় ১০০‑বছরের সময়সীমায় ২৮ গুণ বেশি, ফলে এর পরিমাণ কমে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ধীর হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন যে ছাল‑মাইক্রোবায়োম মিথেনকে সরাসরি ভোগ করে, ফলে বায়ুমণ্ডলে তার সঞ্চয় কমে। একই সঙ্গে, কার্বন মনোঅক্সাইড ও হাইড্রোজেনের উপস্থিতি মিথেনের জীবদ্দশা বাড়িয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

একজন বায়োকেমিস্টের মতে, গাছের ছাল থেকে এই গ্যাসগুলো অপসারণ একটি “লুকানো সুবিধা” যা আগে অজানা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে গাছের ছাল এই গ্যাসগুলোকে শোষণ করে, ফলে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গাছের ভূমিকা শুধুমাত্র কার্বন শোষণেই সীমাবদ্ধ নয়।

বিশ্বব্যাপী গাছের ছালের মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৪১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সম্মিলিত এলাকা সমান। গবেষকরা অনুমান করেন যে প্রতিটি বর্গমিটারে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন মাইক্রোব রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মাইক্রোঅর্গানিজম গ্যাস শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

একজন বন ইকোলজিস্টের মন্তব্যে বলা হয়েছে যে এই মাইক্রোবায়োমটি “সরাসরি চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য” ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গাছের ছালকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট গবেষণা করা হয়নি। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ছাল‑পরিবেশের বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।

মিথেনের উৎস নিয়ে বহু বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে আসা বিজ্ঞানীরা এখন গাছের ছালকে একটি সম্ভাব্য শোষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মিথেন মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের প্রায় ৩০ শতাংশ দায়ী, যা মূলত জলাভূমি ও হ্রদের অক্সিজেন‑হীন পৃষ্ঠে বসবাসকারী অ্যানেরোবিক মাইক্রোব থেকে উৎপন্ন হয়। এই গ্যাসের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পথ প্রধানত জলে বুদবুদ হয়ে উঠে।

অ্যামাজনের নিম্নভূমি থেকে মিথেনের পরিমাপের সময় দেখা যায়, উপগ্রহের তথ্যের তুলনায় গ্যাসের পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কম। এই পার্থক্য প্রথমে অজানা ছিল, তবে পরবর্তীতে গবেষকরা বুঝতে পারেন যে গাছের ছাল এই গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ শোষণ করে। ২০১৭ সালে একটি দল একই রকম পর্যবেক্ষণ করে এবং জানে যে অঞ্চলের মিথেনের অর্ধেকই ছাল‑মাইক্রোবায়োমের কার্যক্রমের ফল।

এই ফলাফলগুলো গাছের পরিবেশগত ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দরকারীয়তা তুলে ধরে। ছাল‑মাইক্রোবায়োমের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে গ্রীনহাউস গ্যাস হ্রাসের নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এর সঠিক প্রভাব ও সীমা নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

গাছের ছালকে শুধু কাঠের রক্ষা নয়, বরং গ্যাস শোষণের সক্রিয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা পরিবেশ নীতি গঠনে সহায়ক হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনায় গাছের ঘনত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।

আপনার মতামত কী? গাছের ছাল‑মাইক্রোবায়োমের ভূমিকা সম্পর্কে আরও জানার জন্য আপনি কী ধরনের গবেষণা বা নীতি পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments