20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলক্ষ্মিপুরে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের প্রতিবাদে ঢাকা‑লক্ষ্মিপুর মহাসড়ক অবরোধ

লক্ষ্মিপুরে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের প্রতিবাদে ঢাকা‑লক্ষ্মিপুর মহাসড়ক অবরোধ

লক্ষ্মিপুর সদর দফতরের বটতলি থেকে দত্তপাড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজের গুণগত মানে অসঙ্গতি দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা‑লক্ষ্মিপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে তিন ঘণ্টা অবরোধ করে ঝাড়ু মিছিল পরিচালনা করে।

প্রতিবাদকারীরা সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং কাজের দ্রুত অবনতি নিয়ে অভিযোগ তুলে, অবরোধের ফলে চলাচলরত চালক ও যাত্রীদের জন্য বিশাল অসুবিধা সৃষ্টি করে। অবরোধের সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশালসহ বহু জেলার যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক আটকে পড়ে, যা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ডেকে আনে।

অবধি চলমান রাস্তায় গতি হ্রাসের ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের অপ্রত্যাশিত আর্থিক ক্ষতি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে কিছু যাত্রী ও প্রতিবাদকারীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

বিকালের প্রায় দেড়টায় লক্ষ্মিপুরের স্থানীয় উন্নয়ন অধিদপ্তর (LGED) এর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। উজ্জ্বল চৌধুরীর মতে, সমস্যাটি উপরের কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবাদ দলের নেতা আবুল হাসান সহেল উল্লেখ করেন, সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণগুলো মানদণ্ডের নিচে এবং কাজের কয়েক দিন মধ্যেই পৃষ্ঠে ফাটল দেখা দেয়। তিনি জানান, যদি দ্রুত পুনর্নির্মাণ না করা হয়, তবে আগামী বর্ষা মৌসুমে সড়কটি সম্পূর্ণ অপ্রযোজ্য হয়ে যাবে।

সহেল আরও সতর্কতা জানান, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তবে LGED অফিসের চারপাশে ঘেরাও করার হুমকি দেন। এই ধরনের হুমকি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিতে আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

অবরোধের সময় আনন্দ বাসের চালক মো. ইসমাইলের সঙ্গে কথোপকথন হয়। তিনি বলেন, প্রতিবাদে গাড়ি আটকে যাত্রীদের কষ্ট দিচ্ছে, যা নিজেই একটি অপরাধের সমতুল্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির দায়ী ব্যক্তিরা যদি শাস্তি পায়, তবে সাধারণ মানুষকে কেন দোষারোপ করা উচিত।

প্রতিবাদে ব্যবহৃত ঝাড়ু মিছিলের প্রতীকী অর্থ হল সড়ক সংস্কারের কাজের প্রতি জনগণের অসন্তোষ প্রকাশ করা। তবে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে সড়ক ব্যবহারকারীদের বাধা দেওয়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অবস্থানগতভাবে, ঢাকা‑লক্ষ্মিপুর মহাসড়ক দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রুটের একটি, যা দৈনন্দিনভাবে প্রচুর পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করে। সুতরাং, কোনো সময়ে এই রুটে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে এবং আইনগত দায়িত্বও বাড়ে।

প্রশাসনিক দিক থেকে, অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ অবরোধের সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য উপস্থিত থাকে এবং অবরোধের সময় কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিবেদন পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়া, LGED-কে কাজের গুণগত মান পুনরায় যাচাই করার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, সড়ক সংস্কারের কাজের ত্রুটিগুলি শুধুমাত্র গুণগত নয়, বরং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা উল্লেখ করেন, যদি সড়কটি পুনরায় সংস্কার না করা হয়, তবে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়বে, যা জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে।

উল্লেখযোগ্য যে, সড়ক সংস্কার প্রকল্পের তহবিল কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বাজেট থেকে সরবরাহিত, এবং তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আর্থিক অডিটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রতিবাদকারীরা এই দিকটিও তুলে ধরে, তহবিলের অপব্যবহার ও দুর্নীতির সম্ভাবনা তদন্তের দাবি করেন।

অবশেষে, উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, কাজের ত্রুটি সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করা হবে এবং নতুন উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও LGED উভয়ই আইনগত ও প্রশাসনিক দিক থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে সড়ক সংস্কার প্রকল্পে গুণগত মান বজায় রাখতে তদারকি শক্তিশালী করা এবং জনগণের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে।

সড়ক অবরোধের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী অস্বস্তি সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments