ইলিনয়সের মানবসেবা বিভাগ (IDHS) জানিয়েছে যে, বছরের পর বছর চলা নিরাপত্তা ত্রুটির ফলে ৭ লক্ষের বেশি বাসিন্দার ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে মেডিকেড ও মেডিকেয়ার সেভিংস প্রোগ্রামের সুবিধাভোগী, পাশাপাশি পুনর্বাসন সেবার গ্রাহকরা অন্তর্ভুক্ত। এই লিকের প্রথম চিহ্ন জানুয়ারি ২ তারিখে প্রকাশিত একটি সরকারি বিবৃতিতে পাওয়া যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি অভ্যন্তরীণ মানচিত্র তৈরির সাইটে বাসিন্দাদের তথ্য সংরক্ষিত ছিল, যা মূলত রাজ্যের সম্পদ বণ্টন ও সেবা পরিকল্পনা সহজ করতে ব্যবহৃত হতো। তবে এই সাইটটি অপ্রত্যাশিতভাবে পাবলিকভাবে দৃশ্যমান হয়ে গিয়েছিল, ফলে যে কেউ ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য দেখতে পারত।
সাইটটি এপ্রিল ২০২১ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনাবদ্ধভাবে প্রকাশিত ছিল, যখন শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা হয়। এই চার বছরের সময়কালে, তথ্যের অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ না থাকায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মেডিকেড ও মেডিকেয়ার সেভিংস প্রোগ্রামের সুবিধাভোগী ৬৭২,৬১৬ জনের তথ্য লিক হয়েছে বলে জানা যায়। এই গ্রুপের তথ্যের মধ্যে বাসস্থানের ঠিকানা, কেস নম্বর এবং জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত, তবে ব্যক্তিগত নাম প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, মানবসেবা বিভাগের পুনর্বাসন সেবা (Division of Rehabilitation Services) থেকে ৩২,৪০১ জন গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, কেসের অবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে। এই তথ্যের মধ্যে নামসহ ব্যক্তিগত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বেশি।
IDHS উল্লেখ করেছে যে, প্রকাশিত মানচিত্রগুলো চার বছর ধরে অনলাইনে থাকা সত্ত্বেও, কতজন ব্যবহারকারী সেগুলো দেখেছেন তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে, তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার বা দুর্ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই।
এই ধরনের ডেটা লিকের ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, ঠিকানা ও কেস নম্বরের মতো তথ্য চুরি হয়ে পরিচয় চুরি বা অননুমোদিত সেবা আবেদন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মানবসেবা বিভাগ এখনো পুরোপুরি জানাতে পারেনি যে, লিকের ফলে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষতি হয়েছে কি না, তবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ত্রুটি রোধের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রভাবিত বাসিন্দাদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা নিজেরা তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে এবং কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য সতর্ক থাকুন। এছাড়া, পরিচয় চুরি প্রতিরোধে ক্রেডিট রিপোর্ট ও আর্থিক লেনদেনের নজরদারি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, সরকারী ডেটা পরিচালনায় অধিকতর নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আপনি কি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন? আপনার মতামত ও প্রশ্ন শেয়ার করুন।



