গ্লোবাল সিনেমা বাজারে নতুন পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপসিক শিরোনাম ‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে থিয়েটার ঘরে প্রবেশ করেছে। রিক রোমান ওয়াউ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২০ সালের ‘গ্রিনল্যান্ড’ ছবির ধারাবাহিক, যেখানে গেরার্ড বাটলার, মোরেনা বাকারিন এবং রোমান গ্রিফিন ডেভিস প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। চলচ্চিত্রটি PG‑13 রেটিং পেয়েছে এবং মোট ১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের দৈর্ঘ্য।
প্রথম ছবির শেষে গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়া গ্যারি গ্যারিটি পরিবারকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। ‘গ্রিনল্যান্ড ২’ এ পাঁচ বছর পরের সময়কে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে পৃথিবী জুড়ে ধূমকেতুর টুকরো অবিরতভাবে পতিত হচ্ছে এবং বায়ু দূষিত হওয়ায় বাইরের জগতে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্পদ কমে যাওয়ায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম বাড়ছে, ফলে গ্যারি এবং তার পরিবারকে নতুন নিরাপদ স্থানের সন্ধানে গ্রিনল্যান্ড ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
গ্যারি গ্যারিটি, যাকে গেরার্ড বাটলার অভিনয় করেছেন, একজন কাঠামোগত প্রকৌশলী; তার পেশাগত দক্ষতা তাকে সরকারী বেঁচে থাকা পরিকল্পনার প্রধান প্রার্থী করে তোলে। তার স্ত্রী অ্যালিসন, মোরেনা বাকারিনের ভূমিকায়, এবং পুত্র নাথান, রোমান গ্রিফিন ডেভিসের অভিনয়, পরিবারকে মানবিক দিক থেকে সমর্থন করে। অতিরিক্ত চরিত্রে অ্যাম্বার রোজ রেভাহ, সোফি থম্পসন, ট্রন্ড ফাউসা অরভাগ এবং উইলিয়াম আবাদি উপস্থিত, যারা বাঙ্কারের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
চলচ্চিত্রের কাহিনী মূলত গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ায় শুরু হয়। বাঙ্কারের বায়ু দূষণ, খাবারের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান শত্রুতাপূর্ণ শক্তি পরিবারকে নতুন গন্তব্যের সন্ধানে বাধ্য করে। গ্যারি তার প্রকৌশল জ্ঞান ব্যবহার করে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করে, তবে প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন বিপদ ও নৈতিক দ্বিধা দেখা দেয়।
প্রথম ছবির তুলনায় ‘গ্রিনল্যান্ড ২’ থিয়েটার স্ক্রিনে প্রকাশ পেয়েছে, যা কোভিড‑১৯ মহামারীর সময় সরাসরি ভিডিও‑অন‑ডিমান্ডে প্রকাশিত প্রথম ছবির বিপরীত। থিয়েটার মুক্তির ফলে দর্শকরা বড় পর্দায় ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং সাউন্ড ডিজাইন উপভোগ করতে পারছে, যা চলচ্চিত্রের পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপসিক পরিবেশকে আরও বাস্তবিক করে তুলেছে।
সমালোচকদের মতামত বেশ মিশ্রিত। কিছু সমালোচক চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল গুণমান এবং গেরার্ড বাটলারের দৃঢ় অভিনয়কে প্রশংসা করেছেন, তবে গল্পের পুনরাবৃত্তি এবং পূর্বাভাসযোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, পরিবারিক সংঘাত এবং বেঁচে থাকার থিমের পুনরাবৃত্তি কিছু দর্শকের কাছে অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত মনে হয়েছে। তবু, পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপসিক ধারার ভক্তদের জন্য নতুন বেঁচে থাকা কৌশল এবং গ্রিনল্যান্ডের পরিবেশের বর্ণনা আকর্ষণীয় হতে পারে।
বাজারে প্রকাশের সময়, চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের প্রধান শহরের থিয়েটারে সমানভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। টিকিট বিক্রির প্রাথমিক সংখ্যা মাঝারি স্তরে থাকলেও, সামাজিক মিডিয়ায় চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং ট্রেলার ব্যাপক শেয়ার হওয়ায় আগামি সপ্তাহে দর্শকসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ একটি প্রযুক্তিগতভাবে পরিপূর্ণ সিক্যুয়েল, যা প্রথম ছবির মূল থিমকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে। যদিও গল্পের নতুনত্বের দিক থেকে সীমিত, তবে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, অভিনয় এবং থিয়েটার অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রকে পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপসিক শৈলীর ভক্তদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প করে তুলেছে। ভবিষ্যতে একই ধারার নতুন প্রকল্পের জন্য এই চলচ্চিত্রের পারফরম্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে।



