গতকাল রাত, তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনাস্থলে গুলি চালিয়ে হত্যাকারী গোষ্ঠীকে দুষ্কৃতকারী বলে BNP মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন। আজকের শোক বার্তায় তিনি এই হত্যাকে দেশের নৈরাজ্য সৃষ্টির একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আজ বিকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি শোক বার্তা প্রকাশ করে বলেন, “দুষ্কৃতকারীরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত”। তিনি যুক্তি দেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর স্বৈরাচারী শাসক গোষ্ঠীর পতনের ফলে আবারো দুষ্কৃতকারীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, আজিজুর রহমানের হত্যাকাণ্ড দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলার একটি স্পষ্ট প্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, “দুষ্কৃতকারীদের নির্মম ও পৈশাচিক হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ”। এই মন্তব্যে তিনি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে ইঙ্গিত করেছেন।
বিএনপি মহাসচিবের শোক বার্তায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “এসব দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই” এবং গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার ও দেশের মৌলিক ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য দল-ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মির্জা ফখরুল আরও জোর দিয়ে বলেন, দোষী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকার্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট গুলিবিদ্ধের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধের সময় গলিতে অল্প সংখ্যক অপরিচিত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং জনমতকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
অবশেষে, মির্জা ফখরুলের শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আহ্বান জানান, “নইলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রতি সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।



