হিন্দি চলচ্চিত্র Mastiii 4 সম্প্রতি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে জনপ্রিয় রেডিও জকী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশীষ শর্মা দাবি করছেন যে ছবির একটি কমেডি দৃশ্য তার ইনস্টাগ্রাম রিলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ, যা তিনি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার হয়েছে বলে মনে করছেন।
Mastiii 4-কে একই শিরোনামের পূর্বের চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক হিসেবে প্রচার করা হয় এবং এটি বড় স্ক্রিনের পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়ায়ও মুক্তি পাবে। ছবির নির্মাতা দল এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
আশীষ শর্মা, যিনি রেডিও জকী হিসেবে পরিচিত এবং সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতা, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি স্কিটের ভিডিওতে ১.১ কোটি ভিউ অর্জন করেছে। ঐ স্কিটটি হাস্যকরভাবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছিল এবং দ্রুতই ভাইরাল হয়ে উঠেছিল।
শর্মা উল্লেখ করেন যে Mastiii 4-র একটি প্রধান কমেডি দৃশ্যে তার স্কিটের মূল ধারণা, সংলাপ এবং শারীরিক কৌতুকের ধরণ সম্পূর্ণভাবে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই দৃশ্যটি তার মূল রিলের সঙ্গে তুলনীয় এবং কোনো অনুমোদন বা ক্রেডিট ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শর্মা দিল্লি হাই কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। পিটিশনে তিনি চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কন্টেন্টের ব্যবহার বন্ধ করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এছাড়া তিনি ক্ষতিপূরণ ও কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও বিতরণকারী দল এখনো আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং তারা কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি। তবে শিল্পের অভ্যন্তরে কপিরাইট সংরক্ষণ ও ডিজিটাল কন্টেন্টের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্টের দ্রুত বিস্তার এবং সামাজিক মিডিয়ার প্রভাবের ফলে কপিরাইট লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের মামলা শিল্পের সৃজনশীল স্বাতন্ত্র্য রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল স্রষ্টাদের অধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।
Mastiii 4-র OTT মুক্তি এখনো নির্ধারিত তারিখে অগ্রসর হচ্ছে, তবে আদালতের কোনো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা রায় প্রকাশ পেলে ছবির স্ট্রিমিং পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। উভয় পক্ষের জন্যই এই মামলা ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়াতে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা চলছে। বিষয়টি উভয় শিল্পকর্মের সৃজনশীলতা এবং ডিজিটাল কন্টেন্টের সুরক্ষার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সমতা রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



