সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাঙালি প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম ম্যাচে সিলেট টাইটান্স ২০ রানের পার্থক্যে ঢাকা ক্যাপিটালসকে পরাজিত করে তাদের প্লে‑অফের স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। এই জয় টাইটান্সকে আট পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে নেট রানের পার্থক্য রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা ক্যাপিটালস ছয়টি ম্যাচের মধ্যে চারটি পয়েন্টে পঞ্চম স্থানে আটকে রয়েছে।
বাটিংয়ে সিলেট টাইটান্স ২০ ওভারে ১৮০ রান ছয় উইকেটের সঙ্গে শেষ করে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক টোটাল হিসেবে গণ্য হয়। আরিফুল ইসলাম ৩৯ বলের মধ্যে ৩৮ রান তৈরি করে, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ২৩ বলে ৩৩ রান, পারভেজ হোসেন এমন ২৪ বলে ৩২ রান এবং মুঈন আলি মাত্র আট বলে ২৮ দ্রুত রান যোগ করে দলের স্কোরকে উঁচুতে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মুঈনের শেষের আক্রমণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তিনি নাসির হোসেনকে, যিনি প্রথম তিন ওভারে মাত্র সাত রানই ছাড়িয়েছিলেন, পেনাল্টি ওভারে ২৮ রান গড়ে তুলেছেন। শেষ ওভারে অতিরিক্ত ১৭ রান যোগ করে টাইটান্সের স্কোরকে দৃঢ়ভাবে শেষ করেছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের দিক থেকে আফগান দৌড়বিদ জিয়াউর রহমান শারিফি চার ওভারে তিন উইকেটের সঙ্গে ৩৫ রান দিয়েছেন, যা তাদের জন্য একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিল।
ঢাকার ব্যাটিং শুরুতে রাহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের জোড়া ৫৬ রান যোগ করে উন্মুক্ত করেছে। তবে মামুন ১১ বলে ২৪ রান করে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় দলটি ৬৭/৩ স্কোরে নেমে আসে। গুরবাজের সঙ্গে সাইফ হাসান চতুর্থ উইকেটের জন্য ৩৭ রান যোগ করে ইনিংসকে সামান্য স্থিতিশীল করে। গুরবাজ ৪৪ বলে ৫১ রান করে আউট হওয়ার পর ঢাকা ধারাবাহিকভাবে রেট বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং নিয়মিত উইকেট হারায়।
সাব্বির রহমান ১৬ বলে ২৫ রান না-আউট থেকে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন, তবে দলটি শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৬০ রান ছয় উইকেটের সঙ্গে শেষ করে। সিলেটের বলার দিকে ফিরে তাকালে সালমান ইরশাদ তিন উইকেটের সঙ্গে ২৫ রান দিয়েছেন, আর মুঈন আলি দুইটি উইকেটের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে সিলেট টাইটান্সের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে এবং নেট রানের পার্থক্য রায়শাহী ওয়ারিয়র্সকে ছাড়িয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। দলটি এখন পরবর্তী ম্যাচে এই সাফল্যকে ধারাবাহিক রাখতে চায়, যাতে প্লে‑অফের সীমানা অতিক্রম করা সম্ভব হয়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য এই পরাজয় একটি সতর্কবার্তা, কারণ তারা এখনো পয়েন্টের দিক থেকে শীর্ষ চার দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। তাদের পরবর্তী ম্যাচে রেট বজায় রাখা এবং শীর্ষে উঠতে অতিরিক্ত রানের প্রয়োজন হবে।
বিপিএল টুর্নামেন্টের বর্তমান পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়ছে, এবং উভয় দলই নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবে। সিলেটের হোম গ্রাউন্ডে অর্জিত এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, আর ঢাকা ক্যাপিটালসকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, সিলেটের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত স্কোরিংয়ে দক্ষতা দেখিয়েছে, বিশেষ করে শেষের ওভারগুলোতে রেট বাড়াতে পারদর্শী হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা ক্যাপিটালসের শুরুর উন্মুক্ত অংশ শক্তিশালী হলেও মাঝের পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিপিএল-এর পরবর্তী রাউন্ডে সিলেট টাইটান্সের লক্ষ্য হবে ধারাবাহিক জয় অর্জন এবং প্লে‑অফের জন্য নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা, আর ঢাকা ক্যাপিটালসকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করে শীর্ষ চারের মধ্যে ফিরে আসতে হবে।



