স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রকাশিত একটি নোটিশে জানানো হয়েছে যে, প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা এক বছর থেকে দুই বছর করা হবে। এই পরিবর্তন তৎক্ষণাৎ কার্যকর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরে নোটিশটি প্রকাশিত হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে রোগী সেবা সহজতর করা এবং প্রশাসনিক বোঝা কমানোই মূল উদ্দেশ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও ভ্যাট একসাথে সরকারী তহবিলে জমা দিতে হবে।
গত আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত দেশের মোট ১৯,৬২৭টি নিবন্ধিত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ৯১৪টি, অর্থাৎ ৪.৬৬ শতাংশই লাইসেন্স নবায়ন করেছে। একই সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা ২,৭৫৪ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনও মোটের অল্পই।
প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সমানভাবে উদ্বেগজনক। ৩৫,৫৯৭টি নিবন্ধিত সেন্টারের মধ্যে কেবল ১,৭৯০টি, প্রায় ৫ শতাংশই লাইসেন্স নবায়ন করেছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫,৭৩৫ ছিল, যা নির্দেশ করে নবায়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে।
অনেক প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে লাইসেন্স নবায়ন না করেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তদুপরি, পর্যবেক্ষণের অভাবের কারণে রোগীর নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত নবায়ন না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা, কর্মীসংখ্যা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি মানদণ্ড মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করে আসছে। তারা যুক্তি দেয় যে, বর্তমান নবায়ন প্রক্রিয়া বহু সংস্থার সমন্বয়ে হওয়ায় সময়সাপেক্ষ এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ায়। এই চাহিদা শেষমেশ সরকারের নোটিশে প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রক্তব্যাংক, দন্তচিকিৎসা ক্লিনিক এবং মেডিকেল চেক‑আপ সেন্টারের লাইসেন্সিং সম্পর্কিত বিধান বিদ্যমান, তবে লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়নের সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল না। নতুন নির্দেশিকায় দুই বছরের মেয়াদ নির্ধারণের পাশাপাশি একসাথে দুই বছরের ফি ও ভ্যাট প্রদানকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই পরিবর্তন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই বছরের মেয়াদে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার ফি প্রদান করতে হবে না, ফলে আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ কমবে। পাশাপাশি, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মানদণ্ডের অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজনও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সহজতর করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নীতির বাস্তবায়ন কিভাবে রোগীর সেবা মানকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। আপনার মতামত কী? প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ার এই পরিবর্তন আপনার প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা জানাতে মন্তব্য করুন।



