স্যানশনিং অব রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫ নামে একটি নতুন বিল হাউস ও সেনেটে আলোচনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। এই আইনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর রুশ তেল কেনার জন্য উচ্চ শুল্ক আরোপের অনুমতি দেবে, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়ন কমে। বিলের খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সেনেটর লি গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্টহাল একসাথে প্রস্তুত করেছেন, হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী।
গ্রাহাম উল্লেখ করেন, এই আইনটি ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার সরঞ্জাম দেবে, বিশেষ করে যারা সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে উভয় দলই বিলের পক্ষে ভোট দেবে এবং সম্ভব হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
বিলের মূল লক্ষ্য রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বাধ্য করা। রাশিয়ার তেলকে প্রধান রপ্তানি উৎস হিসেবে ব্যবহার করে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদের রুশ তেল ক্রয় কমানোই উদ্দেশ্য। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে এই তিন দেশ রুশ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রাজিল ও ভারত রুশ তেলের ক্রয় পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের আগস্টে ভারতের পণ্যে আরোপিত শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি করেছিল, যা রুশ তেল আমদানি হ্রাসে সহায়তা করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৩-এ ভারত গড়ে প্রতিদিন ১২০ কোটি ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছিল, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন। জুন ২০২৪-এ ভারত সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত রুশ তেল আমদানি করেছিল, তবে এখন তা কমিয়ে আরও সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারতের রুশ তেল ক্রয় কমাতে উৎসাহিত করছেন। তিনি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্ককে “খুবই চমৎকার” বলে উল্লেখ করে, তবে শুল্ক বাড়ার কারণে ভারতকে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, ভারত রুশ তেল ক্রয় কমিয়ে তার প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং মোদীকে “ভাল মানুষ” ও “চমৎকার নেতা” হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
বিলটি যদি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়, তবে ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ আরোপের ক্ষমতা থাকবে। এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে আসতে পারে, তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং রাশিয়া-উক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীনের রুশ তেল নীতি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের ভোটের ফলাফল এবং ট্রাম্পের শুল্ক ব্যবহারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই আইনটি রাশিয়ার অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে।



