গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গৃহস্থালীর সঙ্গে মতবিনিময় সভার সময় বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুলেট‑প্রুফ ভেস্ট প্রদর্শন করেন। গোপালগঞ্জ‑৩ (কোটালীপাড়া‑টুঙ্গিপাড়া) আসনের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি শার্ট ও পাঞ্জাবি খুলে সুরক্ষামূলক জ্যাকেটটি তুলে ধরেন।
জিলানী বলেন, “আমাদের জীবনে হুমকি রয়েছে, এটা স্বীকার করা দরকার। দেখুন, আমি এখন বুলেট‑প্রুফ জ্যাকেট পরেছি। কখন কী ঘটবে তা কেউ জানে না, তবু আমি জনগণের পাশে থাকার ঝুঁকি গ্রহণ করছি।” তিনি নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিসেবে তিনি যে আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নির্বাচনী এলাকা। জিলানী উল্লেখ করেন, “আমি সতেরো বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করছি। এই সময়ে আমি কখনোই এলাকার সীমা ছাড়িনি। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। ২০১৮ সালে আমাকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল।”
বন্দি অবস্থায় তার স্ত্রী তার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে জমা দেন, তবে তখনকার প্রশাসন তা বাতিল করে দেয়। পরে তার স্ত্রী নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মামলায় জয়ী হয়ে মনোনয়নপত্র পুনরুদ্ধার করেন। জিলানী বলেন, “নির্বাচনের নামে যে প্রহসন করা হয়েছিল, তাতে আমাকে মাত্র ১২৩টি ভোটই দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে আমি পাঁচ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি, কিন্তু তা স্বীকার করা হয়নি।”
সমাবেশে কোটালীপাড়া উপজেলার বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার, কোটালীপাড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি একত্রে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশে নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করেন।
জিলানীর এই প্রকাশনা গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নিরাপত্তা উদ্বেগকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বজায় রাখতে হলে আমাদের নিজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” তার এই বক্তব্যের ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা তীব্রতর হতে পারে।
বিএনপি দলের অন্যান্য নেতারা জিলানীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, “প্রতিটি প্রার্থীকে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে হবে, যাতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়।”
গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা এই সমাবেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জিলানী বলেন, “আমি জনগণের সঙ্গে আছি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এই ঘটনাটি গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করছে, যেখানে নিরাপত্তা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা একসাথে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এই বিষয়গুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
গোপালগঞ্জের এই সমাবেশে নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



