22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানমিল্কি ওয়ে তারকাগুলোর নিউট্রিনো পৃথিবীতে প্রবাহিত হওয়ার পরিমাণ নির্ধারিত

মিল্কি ওয়ে তারকাগুলোর নিউট্রিনো পৃথিবীতে প্রবাহিত হওয়ার পরিমাণ নির্ধারিত

একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গ্যালাক্সির সব তারকা থেকে নির্গত নিউট্রিনোর পরিমাণ পৃথিবীতে কতটা পৌঁছায় তা গণনা করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঘনবসত তারকাগুলো থেকে আসা নিউট্রিনোই মোট প্রবাহের বেশিরভাগ গঠন করে।

নিউট্রিনো হল অতি হালকা উপ-পরমাণু কণিকা, যা পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রায় কোনো বাধা ছাড়াই অতিক্রম করে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, গ্যালাক্সির অন্য তারকাগুলো থেকে আসা নিউট্রিনো প্রতি সেকেন্ডে আপনার নখের টুকরোতে প্রায় এক হাজারটি অতিক্রম করে।

এর তুলনায় সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনোর সংখ্যা প্রায় এক কোটি গুণ বেশি, যা সূর্যের নিকটত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। সূর্যকে দীর্ঘদিন ধরে নিউট্রিনোর প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হয় এবং ১৯৬০-এর দশকে প্রথমবার সেগুলো সনাক্ত করা হয়েছিল।

সৌর নিউট্রিনোর বিভিন্ন প্রকার আলাদা করা সম্ভব হয়েছে, যা তারার কোরে ঘটে যাওয়া পারমাণবিক বিক্রিয়ার ফল। তবে গ্যালাক্সির অন্যান্য তারকা থেকে উৎপন্ন নিউট্রিনো এখনো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়নি, যদিও তাত্ত্বিকভাবে তাদের অস্তিত্ব নিশ্চিত।

এই নতুন গবেষণায় গ্যালাক্সির তারকা সংখ্যা ও বণ্টন সম্পর্কে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গাইয়া উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। গাইয়া থেকে প্রাপ্ত নক্ষত্রের অবস্থান, ভর ও বয়সের তথ্যকে গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনের মডেলের সঙ্গে যুক্ত করে নিউট্রিনো উৎপাদনের হার অনুমান করা হয়েছে।

বিভিন্ন ভরবিশিষ্ট তারকারা তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিউট্রিনো উৎপন্ন করে। গবেষকরা এই ভিন্নতা বিবেচনা করে গ্যালাক্সির সমগ্র নিউট্রিনো প্রবাহের একটি সমন্বিত হিসাব তৈরি করেছেন। ফলস্বরূপ, গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অংশে ঘনবসত তারকাগুলোর অবদান সর্বাধিক দেখা গেছে।

গ্যালাক্সির কেন্দ্রে নিউট্রিনোর ঘনত্ব বেশি হওয়ায়, সেখান থেকে আসা কণাগুলোকে পৃথকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। বিশেষভাবে দিকনির্দেশ নির্ণয় করতে সক্ষম নিউট্রিনো ডিটেক্টর ব্যবহার করলে সূর্যের নিউট্রিনো ও গ্যালাক্সির নিউট্রিনোর মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে।

একটি গবেষণা দল উল্লেখ করেছে যে, দিকনির্দেশীয় সংবেদনশীলতা সম্পন্ন ডিটেক্টর গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় দিক থেকে আসা নিউট্রিনোকে আলাদা করতে সহায়তা করবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে গ্যালাক্সির বাইরে থেকে আসা বিরল নিউট্রিনোর সিগন্যালকে স্পষ্টভাবে ধরা সম্ভব হতে পারে।

ডেনমার্কের কপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ প্যাব্লো মার্টিনেজ-মিরাভে এই ধারণা উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, দিকনির্দেশীয় বিশ্লেষণ নিউট্রিনো গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে এবং গ্যালাক্সির গঠনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

গ্যালাক্সির সব তারকা থেকে নির্গত নিউট্রিনোর মোট প্রবাহের সঠিক পরিমাণ এখনো গবেষণার অধীনে, তবে এই গণনা বিজ্ঞানীদেরকে ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে।

নিউট্রিনো গবেষণার এই অগ্রগতি গ্যালাক্সির গঠন, তারার বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের মৌলিক শারীরিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে।

আপনার মতে, দিকনির্দেশীয় নিউট্রিনো ডিটেক্টর কীভাবে গ্যালাক্সির গোপন তথ্য উন্মোচনে ভূমিকা রাখতে পারে? ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কী ধরনের নতুন আবিষ্কারের দরজা খুলে দিতে পারে, তা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments