ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার অশেস সিরিজে ৪-১ পরাজয়ের পর এক নতুন স্ক্যান্ডালের মুখোমুখি হয়েছে। হ্যারি ব্রুক, যিনি ওয়েলিংটনে একদিনের আন্তর্জাতিকের ক্যাপ্টেন ছিলেন, নিউ জিল্যান্ডের ট্যুরের সময় একটি নাইটক্লাবের বাউন্সারের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনা ট্যুরের শেষের দিন ঘটেছে, যখন ইংল্যান্ডের দল অস্ট্রেলিয়ায় শেষ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
অশেস সিরিজের ফলাফল ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ৩৫টি ম্যাচের মধ্যে ২৭টি জয় অর্জন করা হয়েছে, যা দুই দলের পার্থক্যকে স্পষ্ট করে। তবে পরাজয়ের কারণ শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়, দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
পূর্বের কয়েকটি ঘটনা এই উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। আট বছর আগে, জোনি বেয়ারস্টোকে পার্থের একটি বারে ক্যামেরন ব্যাংক্রফটের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তীব্র সমালোচনা করেছিল। একই সফরে, ইংল্যান্ড লায়নসের বেন ডাকেটকে জেমস অ্যান্ডারসনের উপর পানীয় ঢালার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
২০২১-২২ সালের কোভিড-প্রভাবিত অশেস সিরিজের শেষে হোবার্টে একটি প্রাতঃকালীন পানীয় সেশনের ওপর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে, যা আবার দলের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মদ্যপান সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। এই ধারাবাহিক ঘটনা ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন তুলেছে যে, ট্যুরের প্রস্তুতি কতটা সঠিক ছিল।
হ্যারি ব্রুকের নিউ জিল্যান্ডে ঘটনার বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি, তবে জানা যায় যে তিনি একদিনের আন্তর্জাতিকের আগে রাতের বেলা একটি ক্লাবের বাউন্সারের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড পরাজিত হয়, যা ট্যুরের সামগ্রিক ব্যর্থতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দল বর্তমানে মেককুলাম, স্টোয়াকস এবং ব্রুক নিয়ে গঠিত, যাদের মধ্যে মেককুলামকে সেপ্টেম্বর মাসে টেস্ট ভাইস-ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই নেতৃত্বের অধীনে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে অপ্রস্তুত ব্যাটিং, ধরা না পড়া ক্যাচ এবং অনিয়মিত বোলিং অন্তর্ভুক্ত।
বাজারে ‘বাজবল’ নামে পরিচিত আক্রমণাত্মক খেলার ধরনকে এখন ‘বুজবল’ বলা হচ্ছে, কারণ মাঠের বাইরে মদ্যপান ও অশান্তি দলের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র শব্দের খেলা নয়, বরং বাস্তবিকভাবে দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ট্যুরের প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত একমত যে, ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা যথাযথ ছিল না। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি ম্যাচের শুরুর দিকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে ব্যাটসম্যানরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেয় এবং ফিল্ডাররা সহজে ক্যাচ মিস করে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ ম্যাচের পর, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও অশান্তি বজায় রাখে। এই সময়ে মিডিয়ায় দলটির মদ্যপান সংস্কৃতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা হয়, যা ট্যুরের সামগ্রিক চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড এখন এই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে বাধ্য। ট্যুরের পর্যালোচনা সভায় প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের আচরণ সংক্রান্ত কঠোর নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয় যে, এই নীতিগুলো কত দ্রুত কার্যকর হবে।
অশেস সিরিজের পরবর্তী সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ইংল্যান্ডের দলকে শীঘ্রই পুনরায় প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এই প্রস্তুতি শুধুমাত্র টেকনিক্যাল নয়, বরং দলের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা উন্নয়নেও কেন্দ্রীভূত হবে।
সারসংক্ষেপে, ইংল্যান্ডের অশেস ট্যুরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অফ-ফিল্ডে মদ্যপান ও অশান্তি সংস্কৃতির সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে। হ্যারি ব্রুকের নিউ জিল্যান্ডে ঝগড়া এই সমস্যার একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



