ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের সর্বশেষ সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার সঙ্গে সঙ্গে জনমতে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে, এইবারের ভোটদান প্রক্রিয়া সত্যিকারের ন্যায়সঙ্গত হবে কি না। মজিবুর রহমান মঞ্জু, যিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রাক্তন পার্টি নেতা হিসেবে পরিচিত, আজকের এই উদ্বেগকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মঞ্জু বলেন, পূর্বের নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম, যার মধ্যে ভোটার তালিকায় ভুল, ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী কর্মীদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনো অনেক নাগরিকের মনে সন্দেহ রয়ে গেছে যে, একই ধরনের সমস্যাগুলি পুনরাবৃত্তি হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে তথ্যের প্রবেশ সীমিত।
জনমত জরিপ ও স্থানীয় সমাবেশের তথ্য অনুযায়ী, ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই এখনো নিশ্চিত নয় যে, তাদের ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং ফলাফল ন্যায়সঙ্গত হবে। সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই সন্দেহের প্রতিফলন স্পষ্ট, যেখানে নাগরিকরা প্রায়ই নির্বাচনী কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মঞ্জু উল্লেখ করেন, এই ধরনের অনিশ্চয়তা কেবল ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা কমিয়ে দেয় না, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বাছাই কমিশন (ইসি) এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ইসি জানিয়েছে যে, নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে ভোটারদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ ফোনলাইন চালু করা হবে, যাতে কোনো অনিয়মের তৎক্ষণাত রিপোর্ট করা যায়। এছাড়া, ইসি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক দল গঠন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কমিশনের মুখপাত্রের মতে, এই সব ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিপক্ষ দলগুলোও মঞ্জুরের মতামতকে সমর্থন জানিয়ে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কঠোর নজরদারি দাবি করেছে। প্রধান বিরোধী পার্টির নেতা উল্লেখ করেছেন যে, ইসির ঘোষিত পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট না হলে তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, কিছু সিভিল সোসাইটি সংগঠনও ভোটার শিক্ষা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভোটাররা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং কোনো অনিয়মের মুখোমুখি হলে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই সন্দেহগুলো সমাধান না হয়, তবে ভোটার অংশগ্রহণের হার কমে যেতে পারে, যা ফলাফলের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে, ইসির সক্রিয় পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা যদি কার্যকর হয়, তবে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা যাবে। মঞ্জু এই দিক থেকে আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষই স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেবে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ইসির ফোনলাইন চালু হবে এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলগুলো তাদের কাজ শুরু করবে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবে, তবে তারা ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে। মঞ্জু শেষ করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এইবারের নির্বাচনের সঠিক পরিচালনার উপর, এবং সকলের দায়িত্ব হল নিশ্চিত করা যে, ভোটের প্রতিটি ধাপ ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়।



